সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
চট্টগ্রাম ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলম ও তার স্ত্রী ইসমাত আরার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও আয়ের উৎস আড়াল করে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মালেক বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুটি মামলার মধ্যে একটিতে শুধু দিদারুল আলমকে আসামি করা হয়েছে। আরেকটিতে স্ত্রী ইসমাত আরা ও দিদারুল আলমকে আসামি করা হয়েছে।
দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানকালে দুদক তার অর্জিত সম্পদের চেয়েও ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৭ টাকা জ্ঞাত আয় কম পেয়েছে। দুদক সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে তার স্থাবর ও অস্থাবরসহ মোট ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে।
২০১০-২০১১ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন খাত থেকে তার আয় ৬৯ কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানে তার প্রদর্শিত আয়ের মধ্যে ১০ কোটি তিন লাখ ৪৭ হাজার ৯২৮ টাকার সম্পদের কোনো উৎস পায়নি।
এ ছাড়া এই সময়ে দিদারুল মোট ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ কোটি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বাদে তার আয় বা সঞ্চয় ৫৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
তবে এর মধ্যে ১০ কোটি তিন লাখ ৪৭ হাজার টাকা আয়ের গ্রহণযোগ্য উৎস খুঁজে পায়নি দুদক। তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৪৩ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার ৪০১ টাকা। পক্ষান্তরে তার নিট সম্পদের মূল্য ৫৭ কোটি ৬০ লাখ ৮৯ হাজার ৭০৮ টাকা। অর্থাৎ অনুসন্ধানকালে তার নামে অর্জিত সম্পদের চেয়ে তার জ্ঞাত আয়ের উৎস ১৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৭ টাকা কম পাওয়া যায়।
এ ছাড়া দিদারুল আলম ২০টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৪৭৫ কোটি ৯৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা ও ৪৭২ কোটি ৯০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উত্তোলনসহ মোট ৯৪৮ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা হস্তান্তর ও স্থানান্তর করে আয়ের উৎস আড়াল করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারাসহ মানিলন্ডারিং আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪(৩) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দিদার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ইসমাত আরা তার স্বামীর সহযোগিতায় জ্ঞাত আয় বহির্ভূত এক কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৪৫০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তার স্বামী দিদারুল আলমের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আয়কর নথিতে ইসমাত আরার নামে দুই কোটি ৬১ লাখ ১৩ হাজার টাকা স্থাবর ও ৫৭ লাখ ৯ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক। অর্থাৎ তিন কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ১৪৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৪-২০১৫ থেকে ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তার বৈধ আয় দুই কোটি ৩৮ হাজার টাকা। একই সময় তিনি বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়েছেন ২৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যয় বাদে তার মোট সম্পদের পরিমাণ সেই হিসেবে এক কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার টাকা।
অর্থাৎ অনুসন্ধানকালে তার নামে অর্জিত সম্পদের চেয়ে তার জ্ঞাত আয়ের উৎস এক কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৪৫০ টাকা কম পাওয়া যায়, যা তার স্বামী সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের দায়িত্ব পালনকালে ঘুষ ও দুর্নীতের মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রতীয়মান হয়। অবৈধ সম্পদ ভোগদখলে রাখায় ইসমাত আরার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং সম্পদ অর্জনে সহায়তা করায় দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।









