সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
তিন গ্রামের মধ্যে একটি মাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাম বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু পাকা ভবনহীন বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। শিক্ষকও দুজন।
নিয়মিত আসে না শিক্ষার্থীরা। সময় ক্ষেপণ করে দুপুরের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন শিক্ষকরা।
এদিকে বারইহাটি সরকারি বিদ্যালয়ের পাশে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে একটি কিন্ডারগার্টেন, যেখানে শিক্ষার্থী প্রায় আড়াইশ।

এমন দৃশ্যের দেখা মিলছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানা এলাকার টাঙ্গাব ইউনিয়নের বারইহাটি এলাকায়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে গফরগাঁও সদর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৩০ কিলোামিটার দূরে বারইহাটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কের পাশেই জানালাবিহীন একটি টিনের ঘর, যার সামনে উড়ছে জাতীয় পতাকা। পাশেই বাঁশে সাঁটানো সাইবোর্ডে লেখা বিদ্যালয়ের নাম ও প্রতিষ্ঠার সন-তারিখ। তখন সকাল সাড়ে ১১টা চারদিকে সুনসান নীরবতা। এ প্রতিবেদকের হাঁটার আওয়াজ পেয়ে টিনের ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন দুই নারী।
কাছে গিয়ে দেখা যায় ওই ঘরের ভেতর দুই পাশে চারটি বেঞ্চ। তার দুটিতে দুই দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে দুই শিশু শিক্ষার্থী। নারী দুজন শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। তাদের সামনে প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন আরেক নারী। জানতে চাইলে তিনি নিজেকে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিচয় দেন।
পরে জানা যায়, ওই দুই শিক্ষার্থীকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পড়াবেন দুজন শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রায় ৩৩ শতক জমিতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন রিয়াজ উদ্দিন ফরাজী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। কিন্তু নির্মাণ করা হয়নি ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।
এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমতে থাকে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পান প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া। তিনি বিউটি খাতুন নামের অপর এক শিক্ষককে নিয়ে প্রায় শিক্ষার্থীশূন্য বিদ্যালয়টিতে আসা-যাওয়া করছিলেন। এরই মধ্যে বিদ্যালয় ছাড়েন বিউটি খাতুন।
এ অবস্থায় একজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় চলমান অবস্থায় প্রায় তিন মাস আগে পাশের একটি বিদ্যালয় থেকে বদলি হয়ে আসেন জহিরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক। বর্তমানে সুলতানা রাজিয়া ও জহিরুল ইসলাম দুজন শিক্ষার্থী নিয়ে চালাচ্ছেন বিদ্যালয়টি।
অন্যদিকে পাশের বারইহাটি বাজারে চোখে পড়ে হাতে খড়ি আইডিয়াল স্কুল নামে একটি কিন্ডারগার্টেনের সাইনবোর্ড। ভেতরে গিয়ে দেখা যায় দুই পাশে দুটি দোকানঘরে বেশ কয়েকটি কক্ষ।
স্থানীয়রা জানায়, আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি কয়েকটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে কিন্ডারগার্টেন পরিচালনা করেন। অল্প দিনেই শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে শুরু করেন কার্যক্রম। এখন প্রায় আড়াই শ শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে শিক্ষার্থীদের মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে বেতন দিতে হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করাচ্ছেন।
গফরগাঁও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু সাঈদ বলেন, দুজন শিক্ষক থাকলেও অবকাঠামোর সমস্যার কারণে বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থী স্কুলমুখী হচ্ছে না। এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









