জাতীয়

সরকারি খাল ভরাট করে পারিবারিক রাস্তা

নিউজ ডেস্ক৭ এপ্রিল ২০২৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রশাসনের বাধার পরও শত বছরের পুরনো একটি সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকার কৃষকদের।

প্রতিকার চেয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়।

সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়ার খেলার মাঠ থেকে নাল্লামুখী খালটি মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বাড়ির জন্য রাস্তা নির্মাণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা সুজাত আলীর ছেলে ঈসমাইল হোসেন, ইউনুছ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও ইসমাইল মিয়ার ছেলে নুরুন্নবী তুষারসহ কয়েকজন বাসিন্দা। তারা জানায়, নুরুন্নবী তুষার পুলিশের একজন কনস্টেবল। তার প্রভাব দেখিয়ে শত বছরের খালটি ভরাট করা হয়েছে। এতে বিপদে পড়বে এলাকার কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে রাব্বি বলেন, খালটি ব্রিটিশ আমলের। ২০-২৫ ফুট চওড়া খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। এ খাল দিয়ে এক সময় নৌকা চলাচল করত। বিভিন্ন কৃষিপণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হতো।

বর্তমানে খালটির বিভিন্ন অংশ ভরাট করে দখল করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আমরা খালটি পুনরুদ্ধার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
ফজলে রাব্বি অভিযোগ করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিন এসে খাল ভরাটে বাধা দেন। এর পরও অভিযুক্তরা জোর করে একজন পুলিশ কনস্টেবলের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাল ভরাট করে দখলে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বশিরুল আলম, শানু মিয়া ও ফরিদ উদ্দিন বলেন, তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন জলাবদ্ধতা দূর করতে গ্রামে গ্রামে খাল খনন করা হবে।

কিন্তু এখন দেখছি উল্টো খাল ভরাট করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা একটা সময় পানির অভাবে কৃষিকাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।
তারা বলেন, খালটি অনেক পুরনো। বর্ষা মৌসুমে এ খালে দেশি মাছ পাওয়া যায়। এই খাল থেকে কয়েক গ্রামের মানুষ কৃষিজমিতে সেচ দেয়। এখন থেকে তা আর সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরুন্নবী তুষারের বাবা ইসমাঈল হোসেন সরকারি খাল ভরাটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এটা বহু বছরের সরকারি খাল। কিন্তু এখন বাড়ি করছি, তাই চলাচল করার জন্য ভরাট করছি।’ তিনি বলেন ‘এসিল্যান্ড আসছে, নায়েব আসছে। তারা বলে গেছে ভরাট করতে। তাই যাতায়াতের জন্য ভরাট করছি।’

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা খাল ভরাটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ডকে বিষয়টি দেখতে বলি। তিনি ইতিমধ্যে বাধা দিয়ে এসেছেন। তার পরও কেউ খাল ভরাট করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।