সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
যে বয়সে বন্ধু-বান্ধব সবাই স্কুলের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যেতে ব্যস্ত, ঠিক সেই বয়সে মায়ের সঙ্গে সংসারের বোঝা কাঁধে নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা হাওয়াই-মিঠাই বিক্রি করতে ব্যস্ত থাকতে হয় শিশু রাহুল মণ্ডলকে (১১)। অভাব-অনটনের মধ্যে তার আর বিদ্যালয়ে যাওয়া হয়নি।
পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে স্বল্প পুঁজির ব্যবসায় নেমেছে সে। নড়াইল জেলা শহরের ভাদুলীডাঙ্গা এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকে জীবন যুদ্ধে নামা এই যোদ্ধা।
নড়াইলের বিভিন্ন বাজারে দুই বছর ধরে হাওয়াই-মিঠাই বিক্রি করে রাহুল। রোজ ৪০ থেকে ৫০ পিচ মিঠাই নিয়ে বাজারে আসে সে।

প্রতি প্যাকেট ২০ টাকা দরে বিক্রি করে। তা থেকে উৎপাদন খরচ বাদে তার তিন থেকে চার শ টাকা আয় হয়। সেই টাকাতেই চলে মা, দাদু, দিদা ও ঠাকুর মাকে নিয়ে পাঁচ সদস্যদের সংসার।
হাওয়াই-মিঠাইয়ের সাজি নিয়ে ক্রেতা খুঁজে রাহুল।
কখনো কখনো হাক-ডাক দেয়, ‘হাওয়াই মিঠায় লাগবে? হাওয়াই মিঠাই?’ কেউ কেউ কিনে নেয়, কেউ আবার পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নড়াইল পৌরসভার আলতাফ হোসেন সুপার মার্কেটের নিচতলায় কথা হয় শিশু রাহুলের সঙ্গে। সে জানায়, তার বয়স যখন এক বছর, তখন তার বাবা মাকে ছেড়ে চলে যান। এর পর থেকে দাদু-দিদার কাছে থাকে সে।
রাহুল বলে, ‘আমার দাদু বাড়িতে হাওয়াই-মিঠাই বানান।
আমি বাজারে বাজারে গিয়ে বিক্রি করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন।’
তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে বের হয় সে। বাজারে বাজরে ঘুরে হাওয়াই-মিঠাই বিক্রি করে বিকেল পাঁচটার দিকে বাসায় ফেরে। অভাবের কারণে স্কুলে পড়ার সুযোগ হয়নি। বাবার কথা উঠতেই চোখ ভিজে আসে তার।
রাহুলের দাদু স্বপন মন্ডল বলেন, ‘এক সময়ে ধানের চাতালে কাজ করতাম। মেয়ের বিয়ের পর কিছু পারিবারিক সমস্যার কারণে মেয়েটিকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়। তখন রাহুলের বয়স মাত্র এক বছর। অভাবের সংসারে নাতিকে পড়াশোনা করাতে পারিনি। ওর মা অন্যের বাসায় কাজ করে সামান্য কিছু টাকা পায়। জিনিসপত্রের যে দাম তাতে পাঁচ সদস্যোর সংসার চালানো দায়।’
মেয়ের আবদারে আজিজুর নামে একজন হাওয়াই-মিঠাই কিনেন। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘মেয়ের আবদারে এক প্যাকেট হাওয়াই-মিঠাই কিনলাম। ছেলেটি অল্প বয়স। এখন তার স্কুলে যাওয়ার বয়স। সে এ কাজ করছে দেখে একটু খারাপ লাগল।’
নড়াইল সদর উপজেলার হিজলডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপন রায় বলেন, ‘রাহুলের মতো শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা জরুরি। সরকারি সহায়তা ও সামাজিক উদ্যোগ থাকলে এ ধরনের শিশুরা পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারে।’









