সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের গলিতে একটি দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’-এর মতো বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনায় অভিযুক্ত ছয় ছাত্রীর লিখিত বক্তব্য নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তারা দাবি করেছে, তারা রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য বা প্রলোভন থেকে নয়, বরং ‘ইয়ার্কির ছলে’ (মজার ছলে) এসব লিখেছিল এবং তাদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়।

তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের শরীরী ভাষা তেমনটা ছিল না।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্লোগান লেখার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে পঞ্চম শ্রেণির এক এবং সপ্তম শ্রেণির চার ছাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সপ্তম শ্রেণির আরো এক ছাত্রী এবং নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির আরেক ছাত্রীর নাম উঠে আসে।
শুক্রবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ডাকে অভিযুক্ত ছয় ছাত্রী ও তাদের বাবা-মা উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি এম তারিক উজ্জামান এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ফাহাদ চৌধুরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্য নেওয়া শেষে কর্মকর্তারা প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিমসহ অন্য শিক্ষকদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থিরচিত্র সংগ্রহ করেন।
অভিযুক্ত ছাত্রীদের বয়স বিবেচনায় তাদের মধ্যে একজন দেয়ালে লেখার কথা স্বীকার করলেও অন্যরা দাবি করেছে, তারা রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য বা প্রলোভন থেকে নয়, বরং ‘ইয়ার্কির ছলে’ (মজার ছলে) এসব লিখেছিল এবং তাদের পরিবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের শেষ পর্যায়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ঘটনার সময় ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী তাদের এটি লেখার নির্দেশ দিয়েছিল।
তবে ছাত্রীদের এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম। তিনি জানান, অভিযুক্তদের শরীরী ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিরপরাধ কিছু প্রকাশ করছিল না, বরং একজনকে বেশ উত্তেজিত অবস্থায় স্লোগান দেওয়ার ভঙ্গিতেও দেখা গেছে।
নেপথ্যে থাকা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর প্রকৃত ভূমিকা যাচাই করতে শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং পুলিশ ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাত্রীদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মুচলেকা নেওয়া হয়নি, কেবল আত্মপক্ষ সমর্থনে তাদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বক্তব্য পাওয়ার পর পুরো ঘটনার একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। এরপর ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ ও বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









