সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
চট্টগ্রামের পটিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মাহাবুব আলম (৩৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর নিহতদের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পটিয়া থানা পুলিশ, স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত মাহাবুব আলম ও অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় এই বিরোধ বহুবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। গত ২৬ মার্চ সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম চাটরা এলাকায় একটি দোকানের সামনে তাদের দেখা হয়। প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে উত্তেজনা আর সেই উত্তেজনাই মুহূর্তে রূপ নেয় রক্তাক্ত হামলায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হওয়ার শক্ত ইঙ্গিত রয়েছে, কারণ অভিযুক্তের কাছে আগে থেকেই ধারালো ছুরি লুকানো ছিল।
মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে নুর মোহাম্মদ তার লুঙ্গির ভেতর লুকিয়ে রাখা ছুরি বের করে মাহাবুব আলমের পেটে আঘাত করেন। আঘাতের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ছুরিটি পেট ভেদ করে পিঠ পর্যন্ত চলে যায় এবং গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান, আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে, এটা সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মাহাবুবকে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে তিন দিন লড়াই করার পর রবিবার ২৯ মার্চ রাত ৮টা ২০ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে ‘স্ট্যাব ইনজুরি’জনিত জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পটিয়া থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ৩২৬/৩০৭ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভিকটিমের মৃত্যু হওয়ায় ৩০২ ধারা সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে। আমরা খতিয়ে দেখছি, এটি একক হামলা, নাকি এর পেছনে আরো কেউ জড়িত ছিল।
এদিকে এ মামলার তদন্তে এখন গুরুত্ব পাচ্ছে পূর্ববিরোধের ইতিহাস, ঘটনার আগে কোনো হুমকি ছিল কি না, পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনাসহ।
মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী তাহমিনা জান্নাত অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে। আগেই বিরোধ ছিল। আমরা এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধের জেরে এর আগেও হুমকি দিয়েছিল, তখন এটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখলে হয়তো এই হত্যাকাণ্ড হতো না।’
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপ নিচ্ছে এবং আদালতে চার্জশিট দেওয়ার আগে প্রতিটি দিক গভীরভাবে তদন্ত করা হবে।









