লাইফ স্টাইল

চিনি মেশানো মধু খাচ্ছেন না তো? জেনে নিন খাঁটি চেনার উপায়

নিউজ ডেস্ক৮ ডিসেম্বর ২০২০২ মিনিট পড়া

সারা বছর মধুর চাহিদা থাকলেও শীত এলে তা বহুগুণে বেড়ে যায়। খাঁটি মধুর নামে প্রতারিত হয়ে অনেকেই ভেজাল জিনিস খাচ্ছেন। বিশেষ করে মধুর নামে চিনির রস পান করে অজান্তেই নিজের বিপদ ডেকে নিয়ে আসছেন।

বাজারে খাঁটি মুধ যে নেই, তা কিন্তু নয়। তবে খাঁটি মধুর কথা বলে চিনি মিশিয়ে হরহামেশা বিক্রি হচ্ছে। চিনির রস মেশানো মধু খাওয়ার ফলে কতটা ক্ষতি হলো জানেন?‌

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্টের অসুখ থেকে ডায়াবেটিস, সবই হতে পারে চিনি মেশানো মধু খাওয়ার ফলে। কারণ, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে, সাময়িক অ্যানার্জি বাড়িয়ে দেয় চিনি।

এছাড়া ওজন বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে স্থূলতা দেখা দেয়। টাইপ টু ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে। হার্টের অসুখের শঙ্কা তৈরি হয়।

এমনকি লিভারের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিসিস হওয়ার শঙ্কা থাকে। মধুর এনজাইম চিনিতে থাকে না, ফলে হজম কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সংক্রমণ জাঁকিয়ে বসতে সাহায্য করে।

এসব থেকে বাঁচতে জেনে নিন খাঁটি মধু চেনার উপায়। মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকবে না। খাঁটি মধুর গন্ধ হবে মিষ্টি ও আকর্ষণীয়।

মধুর স্বাদ হবে মিষ্টি, এতে কোনও ঝাঁঝালো ভাব থাকবে না। বেশ কিছুদিন ঘরে রেখে দিলে মধুতে চিনি জমতেই পারে। বয়ামসহ মধু গরম পানিতে কিছুক্ষণ রাখলেই চিনি গলে মধু আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু নকল মধুর ক্ষেত্রে এটা হবে না।

গ্লাসে বা বাটিতে খানিকটা পানি নিয়ে তার মধ্যে এক চামচ মধু দিতে হবে। যদি মধু পানির সঙ্গে সহজেই মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন যে এটা অবশ্যই নকল। আসল মধুর ঘনত্ব পানির চাইতে অনেক বেশী, তাই তা সহজে মিশবে না। এমনকি নাড়া না দিলে মধু পানিতে মিশবে না।

একটি মোমবাতি নিয়ে সেটির সলতে ভালোভাবে মধুতে ডুবিয়ে নিন। এবার আগুন দিয়ে জ্বালাবার চেষ্টা করুন। যদি জ্বলে ওঠে, তাহলে বুঝবেন যে মধু খাঁটি। আর যদি না জ্বলে, বুঝবেন যে মধুতে পানি মেশানো আছে।

এক টুকরো ব্লটিং পেপার নিন, তাতে কয়েক ফোঁটা মধু দিন। যদি কাগজ তা সম্পূর্ণ শুষে নেয়, বুঝবেন মধুটি খাঁটি নয়।

এক টুকরো সাদা কাপড়ে মধু মাখান। আধ ঘণ্টা রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যদি দাগ থেকে যায়, বুঝবেন মধু খাঁটি নয়।

শীতের দিনে বা ঠান্ডায় খাঁটি মধু দানা বেঁধে যায়।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ