আইন আদালত

অনাগ্রহ থাকলেও ফের তাকে আইজিপি করা হয়

নিউজ ডেস্ক৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও আইজিপি হিসেবে দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানো হয় চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের। প্রথমে সম্মতি নিয়েই দেড় বছরের চুক্তিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার মেয়াদ বাড়ানোর সময় অনাগ্রহী ছিলেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কাউকে আইজিপির পদে বসাতে বলেছিলেন তিনি।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিবকে নিজের অনাগ্রহের কথা জানালেও গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে আবারও আইজিপি করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরায় এ কথা বলেন সাবেক পুলিশ প্রধান।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন চৌধুরী মামুন। তাকে জেরা করেছেন পলাতক দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

এর আগে সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কোনো অপরাধ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজসাক্ষী হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের দেওয়া জবানবন্দির ওপর জেরার দিন ধার্য ছিল।

আমি তাকে জেরা করেছি। জেরার এক পর্যায়ে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ক্ষমা চাইলেই সবকিছুর ক্ষমা হয় না বলে আমি জানিয়েছি। অনেক কিছুর ক্ষমা হয়। কিন্তু হত্যা মামলার কোনো ক্ষমা হয় না।

জেরায় আইনজীবী আমির হোসেন সাবেক আইজিপির কাছে প্রশ্ন রাখেন, তদবির করে আপনি আইজিপি হিসেবে এক্সটেনশন নিয়েছেন। জবাবে তা অস্বীকার করেন মামুন। পাল্টা প্রশ্নে আইনজীবী জানতে চান, মেয়াদ বাড়ানোর সময় তিনি কোনো আপত্তি জানিয়েছিলেন কিনা?

জবাবে চৌধুরী মামুন বলেন, প্রথমে সম্মতি নিয়েই দেড় বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার মেয়াদ বাড়ানোর সময় অনাগ্রহী ছিলেন। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্য কাউকে আইজিপির পদে বসাতে বলেছিলেন তিনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য সচিবকে নিজের অনাগ্রহের কথা জানালেও গোপালগঞ্জকেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে তাকে আবারও আইজিপি করা হয়।

তখন অবসরের পরও দুবার আইজিপি হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন চৌধুরী মামুন।

জেরায় তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমার বাবা দীর্ঘকাল শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমার ছোট ভাইও একই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচন ঘিরে ভোট কারচুপি কিংবা অনিয়মের কারণে অন্য সব পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আমিও পদক পেয়েছি। তবে ঠিক কী কারণে পেয়েছি, তা এ মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে এর আগে-পরে আরো দুবার পদক পেয়েছি।’

জেরায় আসামি মামুনের কাছে আইনজীবী জানতে চান, যখন র‌্যাব পরিচালিত টিএফআই সেলে ব্যারিস্টার আরমানকে আটকের বিষয়ে জানতে পেরেছেন, তখন কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা?

জবাবে রাজসাক্ষী মামুন বলেন, ‘আমি র‌্যাবের বন্দিশালায় আটক ব্যারিস্টার আরমানকে মুক্ত বা আইনি সমাধানের জন্য চেষ্টা করেছি। তবে কোনো ব্যবস্থা করতে পারিনি।’

এর আগে, গত ২ সেপ্টেম্বর রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ার পর মামুনকে আংশিক জেরা করেছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত এই আইনজীবী।

সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনার দায়সহ জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে গত ১০ জুলাই বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। গত ৩ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের পর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।

মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক। গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এ মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হয়েছেন। মামলার ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিলেন সাবেক এই পুলিশ প্রধান।