১৮ বছর পর বাবা-মায়ের সন্ধান পেলেন বাগমারার সুমি

নিউজ ডেস্ক
  • 793
    Shares

এইচ,এম, মোবারক, হাটগাঙ্গোপাড়া:


”বিধাতার লিখন না যায় খন্ডন”।মন থেকে চাইলে সব কিছুই পাওয়া সম্ভব এমনটিই ঘটেছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোয়ালীপাড়া গ্রামের সুমির জীবনে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর সুমি আজ তার বাবা মায়ের সন্ধান পেয়েছেন।

গত ৯ জানুয়ারী ২০২০ ইং তারিখের রাজশাহী থেকে প্রকাশিত সিল্কসিটি নিউজে ’বাবা মাকে খুঁজছেন ১৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাগমারার সুমি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক সংবাদের ভিত্তিতে আজ সুমি তার বাবা মায়ের সন্ধান পেয়েছেন।

তবে সুমির দেওয়া তথ্য মতে পত্রিকায় প্রকাশিত ঠিকানার সাথে তার বাবা মায়ের অবস্থান ও ঠিকানার এখন আর কোন মিল নেই। এই জন্য তাদের খুজে পেতে এত দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুমি।

জানা গেছে, সুমির বাবা আক্কাছ আলী হলেন রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানার নাকইল গ্রামের মৃত তাহের আলীর ছেলে। সুমিকে হারাবার পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত তারা নাকইল গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু সুমি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিলেন তার বাবা মা রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার কোয়ালীপাড়া গ্রামে বসবাস করেন। প্রকৃত ঘটনা হলো সুমির মা ময়না বিবি বাগমারা থানার কোয়ালীপাড়া গ্রামের মো: ছাইদুর রহমানের কন্যা। সুমি যখন হারিয়ে যায় তখন তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। সুমি সুদীর্ঘ কষ্টের জীবন পাড়ি দিয়ে স্বামী- স্ত্রী মিলে বর্তমানে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে চাকুরী করছেন। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ সুত্রে তার এক নিকট আত্মীয় মো: আবু রায়হানের সহায়তায় সুমি’ সিল্কসিটি’ নিউজে তার হারিয়ে যাওয়া জীবন ও বাবা মাকে ফিরে পাবার প্রানের আকুতি প্রকাশ করেন। সেই সুত্র ধরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার কোয়ালীপাড়া সহ বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ- খবর চলতে থাকে। অবশেষে প্রতিবেদক এইচ.এম.মোবারক সুমির আপন খালু মো: আবু বাক্কারকে খুজে পায়।

এই আবু বাক্কার জানান, সুমির জীবনের বাল্যকালের ঘটে যাওয়া কিছু বাস্তব নির্মম ও কষ্টের কাহিনী। তিনি বলেন, আমার শালিকা মোছা: ময়না বিবি আমাদের সঙ্গে রাজশাহী থাকত। সেখানে আমরা এক কাপড় ব্যবসায়ী মো: আবুল কাশেমের সঙ্গে তার বিয়ে দিই। জানা যায় আবুল কাশেম ফরিদপুর জেলার কোন এক এলাকার বাসিন্দা। তাদের দাম্পত্য জীবনে জন্ম হয় সুমির। সুমির বয়স যখন দেড় বছর তখন ময়নাকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় তার বাবা আবুল কাশেম। তখন থেকে নেমে আসে ময়নাও সুমির জীবনে এক ঘোর অন্ধকার। তাদের সংসারের দায়ভার চেপে যায় বড়বোন ও তার ভগ্নিপতি বাক্কারের উপর। অবশেষে সুমিকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ময়না কাজ নেয় চাউল কলে। সেখানে পরিচয় ঘটে চাউল কলের এক শ্রমিক আক্কাছ আলীর সাথে।

সুমির মা ময়না বিবির ভাষ্য মতে, সুমির বয়স যখন দেড় বছর তখনদ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আক্কাছ ও ময়না। এখানেই বিপত্তি দেখা দেয় সুমিকে নিয়ে। তাদের সংসারে ও কাজে-কর্মেবোঝা হয়ে দাঁড়ায় সুমি। চাউল কলের কাজ করে সংসার চালানো তাদের জন্য যেমন কঠিন তেমনই দুর্বিসহ মনে হয় সুমি তাদের কাছে। স্বামী – স্ত্রী দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় সুমিকে অনাথ আশ্রমে বা শিশু সদনে রেখে আসবে তারা। অবশেষে রাজশাহীর কলা বাগান শিশু সদনে সুমিকে রেখে আশে তার মা ময়না বিবি। সেখানে সুমির পরিচয় লিখে দেওয়া হয় সুমির বাবার নাম আক্কাছ ও মায়ের নাম ময়না। ময়নার বাবার বাড়ির ঠিকানা অনুযায়ী গ্রামের নাম উল্লেখ করা হয় রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার কোয়ালীপাড়া গ্রাম। এই শিশু সদনে সুমিকে থাকতে হয় তিন বছর। সেখানে জায়গা না হলে সুমিকে পাঠানো হয় গাইবান্ধা সরকারী শিশু পরিবার (বালিকাতে) । সেখানে সুমি বড় হতে থাকে লেখাপড়া করতে থাকে আপন পরিবেশে। দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হয়ে সুমির এখানে লেখাপড়া শেষে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অফিস সহায়ক পদে তার চাকুরী হয়। সেখানে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় একই দপ্তরের মো: মুনজুরুল ইসলামের সাথে সুমির বিবাহ দেওয়া হয়। বিবাহের পর থেকে তারা সুখেই আছেন। তারা এখন গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন।

সুমি এখন তার বাবা-মায়ের সন্ধান পেয়ে মোবাইল ফোনে তার বাবা -মার সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর আবেগ-আপ্লুতহয়ে পড়েন এবং কান্না জড়িত কন্ঠে এই প্রতিবেদককে তার কষ্টের কথা গুলো বলতে বলতে যেন তার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

বাবা-মার সাথে সরাসরি দেখা করার বিষয়ে জানতে চাইলে সুমি সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে অবগত করে অতি তাড়াতাড়ি বাবা-মার সাথে দেখা করব। যাইহোক, প্রত্যেক সন্তানেরই স্বপ্ন ,আশা -আকাঙ্খা সবই তার বাবা মাকে ঘিরে। প্রত্যেক সন্তানেরই ইচ্ছা,শত কষ্টের মাঝেও যেন তার বাবা-মা তার পাশে থাকেন।কিন্তু সুমির ক্ষেত্রে তা হয়নি এ তো বিধাতারই লিখন।আমাদের প্রত্যেকেরই কামনা আর যেন কোন সুমির জীবনে এমন ঘোর অমানিশার অন্ধকার নেমে না আসে।আর যেন কোন সুমির ঠিকানা মায়ের কোলের পরিবর্তে শিশু সদনের মেঝে না হয়।

স/অ

আরো পড়ুন …

বাবা-মাকে খুঁজছেন ১৮ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাগমারার সুমি

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।