স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

সোহরাওয়ার্দী আহম্মেদ সাগর:

উত্তরাঞ্চলের প্রথম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু ২০১২ সালে। প্রতিষ্ঠার ১০ বছরে এসে স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। রাজশাহীর খড়খড়ি এলাকায় প্রায় ৪৩ বিঘা জমির ওপর চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণযজ্ঞ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে নির্মিত হচ্ছে সুসজ্জিত এই স্বপ্নের ক্যাম্পাস। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বপ্ন বুনে রেখেছেন এই ক্যাম্পাসকে নিয়ে। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে কোনো প্রকার বঞ্চিত না হয় সেই জন্য এমন ক্যাম্পাস প্রয়োজন। আর তাই আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখেই নির্মিত হচ্ছে এই ক্যাম্পাস। আগামী বছরের শুরু থেকেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ১৬টি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। তিনটি অনুষদে বিভাগ মোট ১১টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি থেকেছে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরুর পর এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মোল্লা আশিক-উল-ইসলাম বলেন, “কিছুদিন আগেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। যা আয়োজন করা হয়েছিল স্থায়ী ক্যাম্পাসে। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আব্দুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সভাপতিত্ব করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদভুক্ত ৯টি বিভাগের গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি দেন। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মূল আয়োজন শেষে দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও ছিল। যেখানে প্রখ্যাত ব্যান্ড সংগীত দল ‘ওয়ারফেজ’ সংগীত পরিবেশন করে এবং উপস্থিত ছিলেন আরো জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীগণ। এই অনুষ্ঠান আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশব্যাপী আরো বেশি পরিচিতি দিয়েছে।”

জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের কো-অর্ডিনেটর শাতিল সিরাজের কাছে স্থায়ী ক্যাম্পাস সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, “স্থায়ী ক্যাম্পাসে আমরা নানা ধরণের সুযোগ-সুবিধা পাবো বলে প্রত্যাশা করছি। এখানে কাজের পরিধি অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকলে তার শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম অনেক বেশি জোরালো হয়। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নতুন স্পৃহা তৈরী হয়।”

ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. আশিক মোসাদ্দেক বলেন, “বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুরুতে ৮৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলো। বর্তমানে আমাদের সকল বিভাগ থেকে খুব চমৎকার কাজ হচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের কাছে পরিচিত বিষয় হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। আর এই শিল্প বিপ্লবকে মোকাবেলা করে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রযুক্তিগতভাবে এবং এ আই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি) উপযোগী করে তোলার চেষ্টায় আছে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।ই

উপাচার্য বলেন, যেসকল প্রযুক্তির প্রয়োজন তা আমরা স্থাপন করবো এবং থ্রিডি প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থা করবো। ফলে, বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা লেকচার গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও ডিজিটাল সিটিজেনশিপ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিশাল স্বপ্ন সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যেসকল উপাদান আছে সেগুলোকে আমাদের ক্যাম্পাসে স্থাপন করার মধ্য দিয়ে আমরা আরও এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো বলে আশা করি। প্রতিটি বিভাগের জন্য একধিক ল্যাব বরাদ্দ থাকবে যেন ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে ।’’

জি/আর