সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে চামড়ার দাম

যথাযথ তদারকির অভাবে এবং সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজির মুখে চামড়ার বাজারে বড় ধরনের দর পতন ঘটছে বারবার। আর সাধারণ ব্যবসায়ীরা পড়ছেন আর্থিক ক্ষতির মুখে।

বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা হাজারীবাগে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল শত শত পিস অবিক্রীত কোরবানির পশুর চামড়া। অবশ্য শুরুর দিকে গরুর চামড়া ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ এবং ছাগলের চামড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে চামড়ার দাম ততই নিম্নমুখী হয়েছে।

হাজারিবাগ থানা থেকে কিছুটা দূরে রাস্তায় একপাশে চামড়া সংগ্রহ করছিলেন কয়েকজন। তাদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, দিনের বেলায় চামড়ার রেট কিছুটা ভালো ছিল। তবে রাত যত গভীর হবে রাজধানীসহ সারাদেশ থেকে যত চামড়া ঢোকা শুরু করবে, চামড়ার রেট তত কমতে থাকে। ঢাকা শহরের চামড়ার একটু কদর বেশি থাকে। কারণ চামড়া থিকনেস বা পুরুত্ব বেশি হয়।

আর ঢাকার বাইরে থেকে চামড়াগুলো আসবে সেগুলো একটু কোয়ালিটিতে খারাপ থাকে। সে কারণে ঢাকার বাইরে থেকে আসার চামড়ার রেট অনেক কম হয়।

তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার চামড়ার দাম বাড়ালেও আড়তদাররা কৌশলে দাম দিচ্ছেন না তাদের। সকালে যা একটু দর ছিল, দিনের শেষে সেই দাম আরও কমতে শুরু করেছে।

ট্যানারি মালিকরা কত দামে আড়তদারদের কাছ থেকে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে, সে দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

কোরবানির পশুর চামড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করে মৌসুমি ব্যবসায়ী আর ফড়িয়ারা। তারা সেটা বিক্রি করে আড়তদারদের কাছে। সেখান থেকে চামড়া যায় ট্যানারিতে।

গত বছরের চেয়ে এ বছর সেই দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি বর্গফুট গরু-মহিষের চামড়া ঢাকার ট্যানারি মালিকরা এবার কিনবেন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়; গত বছর এই দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দাম হবে ৩৩ টাকা থেকে ৩৭ টাকা, গত বছর যা ২৮ থেকে ৩২ টাকা ছিল।

সারাদেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা, আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কয়েক বছর আগেও যেসব চামড়া বিক্রি হত ২৫০০-৩০০০ টাকায়, এবার সেসব চামড়ার দাম ২৫০ টাকার বেশি উঠছে না।

 

সুত্রঃ যুগান্তর