সম্রাটের বেলায় কি কোন মানবিকতা কাজ করে না?

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্কঃ 

কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। অধিকাংশ সময়ই চুপচাপ বসে থাকি; কত দরকারী ফোনকল। একটাও রিসিভ করা হয় না, কলব্যাক করতেও ক্লান্ত লাগে। ম্যাসেঞ্জার হোয়াটসআপে ম্যাসেজের স্তুপ। কাউকেই লিখতে ইচ্ছে করে না আর। কথা বলার ইচ্ছেটাই দিন দিন মরে যাচ্ছে। কোনকিছুই আর টানছে না আমাকে- না ব্যক্তি ; না সম্পর্ক!  কেমন যেন বন্ধ্যা সময়।

গত কয়েকদিন আগে একটি খবরের শিরোনামে চোখ আটকে যায়। ‘হাইকোর্টের ১৩ বেঞ্চে ২ দিনে সাড়ে ৮ হাজার মামলা নিষ্পত্তি’। হাইকোর্টের ১৩ বেঞ্চ দুই কার্যদিবসে ৮ হাজার ৫১৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। গত ২১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। তিনি জানান, ৮ হাজার ৫১৭টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা হাইকোর্ট বিভাগের ১৩টি বেঞ্চে ২০ ও ২১ এপ্রিল দুদিনে নিষ্পত্তি হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল ১ হাজার ৪৯৮টি মামলা নিষ্পত্তি করে বিচার বিভাগের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

খবরটা পড়ার পর থেকেই মাথায় ‌অনেককিছু ঘুরছে কিন্তু সময়ের অভাবে লিখতে পারছিলাম না। একটা লম্বা ছুটি কাটিয়ে মাত্রই কাজে ফিরেছি। এবার মনে হলো কিছু লেখা উচিত। ৬ অক্টোবর, ২০১৯ গ্রেফতার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। গ্রেফতারের বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা করা হয়। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আরেকটি মামলা করে। এছাড়াও মানিলন্ডারিং এর আরেকটি মামলাও করা হয়। তারপর মেঘে মেঘে অনেক বেলা পেরিয়ে গেছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো যেই ক্যাসিনো নিয়ে এত আলোচনা সেই সংক্রান্ত কিন্তু একটি মামলাও নেই! একই অভিযোগে আরমান এবং লোকমানের জামিন মিললেও জামিন পাননি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট।

অবশেষে ১০ এপ্রিল অর্থপাচার ও অস্ত্র মামলায় জামিন পান সম্রাট। ১১ এপ্রিল মাদক মামলায়ও জামিন পান তিনি। ১৩ এপ্রিল অসুস্থ ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট হাতে ক্যানোলা নিয়েই আদালতে যান। হাতে ক্যানোলা, মুখে ক্লান্তির ছাপ নিয়ে জামিন শুনানির জন্য আদালতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। না, সেদিন দুদকের মামলায় জামিন পাননি সম্রাট। অথচ মামলাটি ছিল জামিনযোগ্য।

রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার আছে ন্যায়বিচার পাওয়ার। জামিন মানে কিন্তু মামলা শেষ না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক। কিন্তু একটা মানুষ কেন বছরের পর বছর জামিন পাবেন না? অথচ খালেদা জিয়ার পেছনে ছাতা ধরা লোকমানও জামিন পেয়েছে একই মামলায়!

ইট পাথরের শহরে একজন হৃদয়বান মানুষ ছিলেন। হ্যাঁ আপনাদের চোখে হয়তো তিনি অপরাধী। কিন্তু এই মানুষটাই যেকোন উৎসবে পার্বনে ঘরহীন ছিন্নমূল মানুষদের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে উঠতেন। প্রতিরাতে হাজার হাজার নিরন্নের মুখে খাবার তুলে দিতেন। এযুগের রবিনহুড তিনি। সেই যুগেও রবিনহুড কারো কারো চোখে ছিলেন দুর্ধর্ষ ডাকাত। এই করোনা কালে অসহায় মানুষগুলো তাদের প্রিয় স্বজন ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। হাজার হাজার নেতা, শত শত ফেইমশিকারী দানবীর কিন্তু এই প্রান্তিক মানুষগুলোর পাশে কেউ ছিল না। ধরে নিই সবচেয়ে দাগী অপরাধী সম্রাট ভাই। কিন্তু এই জনপদে তার মত কর্মীবান্ধব নেতা কয়জন আছে? যেকোন সংকটে মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এই সংকটে অসহায় মানুষের পাশে তাদের সম্রাট ভাইকে প্রয়োজন।

১৯৯৯ সালে চিকিৎসক দেবী শেঠীর অধীনে ইসলাম হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ওপেন হার্ট সার্জারির মাধ্যমে ভালভ প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি বেশ জটিল একটা সার্জারি। রোগীকে নিয়মিত চেকআপ এবং ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে যথোপযুক্ত চিকিৎসা বঞ্চিত সম্রাট। মানবিক কারণে খালেদা জিয়া সহ আরো অনেকেই অতীতে জামিন পেয়েছেন। সম্রাটের বেলায় কি কোন মানবিকতা কাজ করে না?

লেখক: সম্পাদক, বিবার্তা২৪ডটনেট ও পরিচালক জাগরণ টিভি।

 

সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন