সোমবার , ২৪ জুন ২০২৪ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে বাঙালী নদী খনন, করতোয়ায় ভাঙন

Paris
জুন ২৪, ২০২৪ ৫:১০ অপরাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি:
আষাঢ় মাস মানেই বর্ষাকাল। এ ঋতুতে বৃষ্টির প্রভাবে নদী নালা-খাল-বিলে অথৈ পানিতে ভরা থাকবে। বৃষ্টির ঋতু হলেও বৃষ্টির দেখা সহসাই মিলছে না।

উজানের ঢলে উল্লেখযোগ্য হারে হলেও বাড়েনি করতোয়া নদীর পানি। তারপরেও পানির স্রোতবিহীন করতোয়া নদীতে অসময়ে ভাঙনের সূত্রপাত হলেও মূলত বাঙালী নদী খননের কারণকে দায়ী করছেন করতোয়ার তীরবর্তী বাসিন্দারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর উপজেলার খানপুর ও সুঘাট ইউনিয়নের চককল্যানী-চকখানপুর এলাকার শেষ অংশে করতোয়া নদী সংযুক্ত হয়েছে বাঙালী নদীর সাথে। ফলে দুই নদীর তলদেশের গভীরতা একই ছিলো। এলাকাবাসী জানান, প্রায় তিন মাস আগে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাঙালী নদী খনন করে ১০ থেকে ১২ ফুট গভীরতা বৃদ্ধি করা হয়।

সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনগণের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বাঙালী নদীর মাটি দিয়ে করতোয়া নদীর মুখ বন্ধ করে দেয়। জৈষ্ঠ্যের শেষে উজানের ঢলে বৃদ্ধি পায় করতোয়ার পানি। কিন্তু প্রতিবন্ধকতার কারণে অতিরিক্ত চাপে দুই কূলের আবাদী জমি ভাঙতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শতশত বিঘা জমি হুমকির মুখে আছে। এ নিয়ে কৃষকেরা আশংকায় দিন কাটাচ্ছেন।

উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সত্তোর্ধ আব্দুর সাত্তার প্রথম করতোয়ায় এমন ভাঙ্ন দেখলেন।ভাঙনের ফলে দুই বিঘা জমি হারিয়েছেন তিনি। শুধু সাত্তারই নয়, তার মতো এই এলাকার নাজির, বাদশা মন্ডল, দুলাল মিয়া সহ প্রায় ২০ জন কৃষক অন্তত ২৫ বিঘা জমি হারিয়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন জমি নদীতে বিলীনের পথে যাচ্ছে। একই এলাকার নাজির আকন্দ (৪৫) বলেন জানান করতোয়ার ভাঙনে তিনি এক বিঘা জমি হারিয়েছেন। ভারী বর্ষণ শুরু হলে তার অবশিষ্ট জমিও রক্ষা পাবে না।

বাদশা মন্ডলও (৪৫) জানান, এভাবে করতোয়া নদী ভাঙতে আমি কখনও দেখিনি। মূলত সংযোগ স্থলে অপরিকল্পিত বাঙালী নদী খনন করে করতোয়ার মুখ বন্ধ করার জন্যই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। চৈত্র মাসের শেষে নদী খননের সময় তিনি সহ এলাকার কিছু মানুষ এর প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদরি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদেরকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন।

এই ঘটনায় সম্প্রতি ঈদের এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ ভাঙনের স্থান পরিদর্শন করেছন। এরপর সেখানে ৩৫০টি বাঁশ বরাদ্দ করা হয়েছে। ঈদের পরে সেগুলো স্থাপন করা হলেও ভাঙন থেমে থাকেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল সরাকার (৪২) বলেন, “সরকারি বরাদ্দের সাথে আমরা নিজেরাও কিছু বাঁশ দিয়েছি। জমি বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমও দিয়েছি। কিন্তু জমিগুলো রক্ষা করতে পারছি না। নদী ভাঙতে ভাঙতে রাস্তার কিনারে এসেছে। এখন মনে হয় আমার বাড়িটাও হারাতে হবে।”

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুমন জিহাদী বলেন, আমরা করতোয়ার নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা আশ্বস্ত করলেও দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা এখনও লক্ষ্য করা যায়নি। তবে আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, ভাঙন এলাকার পরিদর্শন পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অচিরেই অনুমোদন আসবে আশা করি।

সর্বশেষ - রাজশাহীর খবর

...