লিটনের মৃত্যুতে সংসদে শোক : গণমাধ্যমকে দোষারোপ

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দুর্বৃত্তের হাতে নিহত গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্মরণে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা লিটনকে নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকায় দোষারোপ করেছেন।

রোববার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের চর্তুদশ অধিবেশনের শুরুতে প্রয়াত লিটনের উপর শোক প্রস্তাব আনা হয়। এরপর আলোচনায় অংশ নেন সরকার ও বিরোধী সংসদ সদস্যরা। সবশেষে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পর সংসদ প্রায় ৩০ মিনিট মুলতবি ঘোষণা করা হয়। শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় আরও অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক, হুইপ মাহাবুব আরা গিনি, এ কে এম শামীম ওসমান, মীর শওকত আলী বাদশা ও জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। আলোচনায় বক্তাদের বেশির ভাগই মনজুরুল ইসলাম লিটনকে নিয়ে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।

সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তার দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘গোয়েন্দাদের একটি চৌকষ দল ছাড়াও পুলিশ বাহিনী খুনীদের ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অবশ্যই হত্যাকারী ও মূল পরিকল্পনাকারীদের ধরে তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমপি লিটন যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গোলাম আযমকে তার এলাকায় ঢুকতে দেননি। এসবও এই হত্যাকা-ের কারণ হতে পারে। তবে তদন্তেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদ সদস্য লিটনের হত্যাকা-কে ‘পরিকল্পিত’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। অবশ্যই এ হত্যাকা-ের মূল রহস্য উদঘাটন এবং খুনীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকায় অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে লিটনকে রাজনীতি করতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নাশকতা ও ৪ পুলিশ হত্যার প্রতিবাদে লিটন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। এটাই যেন ছিল তাঁর অপরাধ।’ তিনি অবিলম্বে খুনীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি লিটন হত্যাকা-ের জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে দায়ী করে বলেন, ‘সন্ত্রাস-নাশকতা-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন এমপি লিটন। এই হত্যাকা-ের মূল নায়ক হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট ও তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। এজন্য অবশ্যই তাকে জবাব দিতে হবে। অগণতান্ত্রিক অপশক্তির নেত্রীই হচ্ছেন খালেদা জিয়া।’

ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে লিটনকে হত্যা করা হয়েছে। একটি শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে দেশের মিডিয়া যেন লিটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শত চেষ্টা করেও লিটনের সিজ করা অস্ত্র ফেরত আনা যায়নি। পেলে হয়তো তাকে এভাবে জীবন দিতে হতো না।’

এমপিদের নিরাপত্তা দাবি করে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘তিনশ’ জনকে নাকি দেহরক্ষী দিয়ে নিরাপত্তা দেয়া হয়। দেশে তো তিনশ’ এমপি নেই। তবে বাকি ভিআইপি কারা তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাতে হবে। অতীতে যারা এমপিদের হত্যা করেছে তারা পুরস্কৃত হয়েছে। আগামীতে লিটনের হত্যাকারীরাও পুরস্কৃত হবে কি না জানিনা।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনন করা খুব সহজ। পত্রিকায় লিখলে তা মানুষ খুব আনন্দ নিয়ে পড়েন। হাসি-তামাশার পাত্র হই আমরা।’

সূত্র: রাইজিংবিডি