লালপুরে প্রতিবন্ধীকে মারপিটের অভিযোগে মামলা

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের লালপুরে  জমি নিয়ে পারিবারিক কলহের জের ধরে সহদোররা প্রতিবন্ধী ও তার স্ত্রী-সন্তানকে মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের সুন্দরবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রতিবন্ধী মো. মশিউর রহমানের স্ত্রী মোছা. রাবেয়া খাতুন বাদি হয়ে স্বামীর ৫ সহদোরের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের সুন্দরবাড়িয়া গ্রামের মৃত আজাহার আলীর ছেলে প্রতিবন্ধী মো. মশিউর রহমান (৩৮) পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন সহদোরদের সাথে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ১৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে মশিউর রহমান বাড়িতে না থাকায় তার চাচাত ভাই দুয়ারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম লাভলুর উপস্থিতিতে সহদোর মাসুদ রানা (৩৮), জিয়াউর রহমান (৫২), রাকিবুল ইসলাম (৫০), মহিদুল ইসলাম (৪৬), মোস্তাফিজুর রহমান (৪৪) বাড়িতে ঢুকে মশিউর রহমানের স্ত্রী মোছা. রাবেয়া পারভিনকে (৩৫) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় ঘর থেকে রাবেয়া পারভিনকে চুলের মুঠি ধরে টেনে হিচড়ে বের করে এনে লাঠি দিয়ে মারপিট করতে থাকে। এ সময় মাথায় লাঠির আঘাত হাত দিয়ে ঠেকাতে গিয়ে বাম হাতের মধ্যাঙ্গুলির হাড় ভেঙ্গে যায়। তার মেয়ে এগিয়ে আসলে তাকেও মারপিট করে। এলোপাথারি মারপিটে রাবেয়া খাতুনের সারা শরীরে ফোলাকালশিরা জখম আঘাতের ফলে মাটিতে পড়লে তারা চলে যায়। আহতদের চিৎকারে প্রতিবেশিরা তাদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অর্থোপেডিক সার্জনের নিকট উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

এ ঘটনায় রাবেয়া খাতুন বাদি হয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর নাটোর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাড়িতে ফিরে আসলে কেন মামলা করেছে বলে এবার তারা প্রতিবন্ধী মো. মশিউর রহমানকে মারপিট করে আহত করে। তিনি লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর ২০২১) এ ঘটনায় মো. মশিউর রহমানের স্ত্রী মোছা. রাবেয়া খাতুন বাদি হয়ে স্বামীর ৫ সহদোরের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় মামলা করেন।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসার কর্মকর্তা (আরএমও) সুরুজ্জামান শামীম বলেন, মারপিটের কারণে মশিউর রহমানের বুকসহ শরীরের বিভিন্ন আঘাত লেগেছে। হাসপাতালে ভর্তি করে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এএইচ/এস