রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অপারেশনের নামে এ কেমন হয়রানি!

নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:

অপারেশনের নামে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চলছে বাণিজ্য ও রোগীদের ভোগান্তি। দিনের পর দিন রোগীকে অপারেশনের সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তদবিরেরর বিনিমেয় অনেকেই ভর্তি হয়েই অপারেশন করার সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়েও ফেরত পাঠানো হচ্ছে রোগীকে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এই ওয়ার্ডের অপারেশন করানোর জন্য অপেক্ষারত রোগীরা।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে এক রোগীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আগের দিন মঙ্গলবারও তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। অথচ গতকালও চারজনের অপারেশন করানো হয়। এর মধ্যে একজন রোগী ছিলেন বাইরের। তাঁকে তাৎক্ষণিক ভর্তি করে অপারেশন করানো হয়।

বিষয়টি স্বীকারো করেছেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডে অপারেশন নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। আমাদের কাছেও অভিযোগ আছে। বিষয়টি নিয়ে আমি পরিচালক স্যারের সঙ্গে আবারো কথা বলবো।’

রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর মাথার সমস্যা নিয়ে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হোন তিনি। এরপর থেকে তাঁর মাথার অপারেশন করার জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি। শেষে গত সোমবার (০৫ সেপ্টেম্বর) জাহাঙ্গীরকে ওয়ার্ড থেকে জানানো হয়, পরের দিন মঙ্গলবার তাঁর অপারেশন হবে। এর জন্য সকাল থেকে না খেয়ে থাকতে হবে। আর প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রগুলো সকাল ৯টার মধ্যে নিয়ে এসে রাখতে হবে। সেই হিসেবে সকল প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন জাহাঙ্গীর। ওইদিন সকাল ৯টা মধ্যে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের অপেক্ষারত কক্ষে নিয়েও যাওয়া হয় জাহাঙ্গীরকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চারজন রোগীর অপারেশনের পরে আর জাহাঙ্গীরের অপারেশন না করেই গতকাল বুধবার করা হবে বলে ওয়ার্ডে ফেরত পাঠানোা হয়। সেই অনুযায়ী গতকাল বুধবার সকাল থেকে আবারো না খেয়ে রাখা হয় ওই রোগীকে। সকালে নিয়েও যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবারো তাঁকে ফেরত পাঠানো হয় ওয়ার্ডে অপারেশন না করেই।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাইরের একজন রোগীকে সিল-ছাপ্পড় মেরে অপারেশন করানো হলো। কিন্তু আমাকে আজও অপারেশন করানো হলো না। অথচ সারাদিন না খেয়ে বসে রাখা হলো। এভাবে দুদিন ধরে হয়রানি করা হলো। আমার কেউ নাই বলে হয়তো আমাকে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।’

আরেক রোগীর স্বজন  বলেন, ‘এই ওয়ার্ডের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজস করে রোগীদের অপারেশন করা হয় তাদের পছন্দমতো। ফলে সাধারণ রোগীরা হচ্ছেন বঞ্চিত। অপারেশনের জন্য দিনের পর দিন আমি নিজেও অপেক্ষা করছি। কিন্তু আমার সিরিয়াল পড়ছে না। এভাবে একটি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা চলতে পারে না। আমরা এর প্রতিকার চাই। গরিব মানুষদের সম অধিকার চাই।’

স/আর

 

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।