রাবির প্রশাসন ভবনে তালা, কোষাধ্যক্ষ নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ

No description available.

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সম্প্রতি ‘এডহক’ এ নিয়োগপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়টির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান আল আরিফকে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সোমবার (২০ জুন) বেলা ১১ টার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তার দপ্তরে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

এর আগে বেলা পৌনে এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এডহকে নিয়োগপ্রাপ্তদের কয়েকজন জানান, সকাল থেকে বেলা ১১  টা পর্যন্ত আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহার আজ বেলা ১১ টায় পদায়নের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি প্রশাসন ভবনে তার নিজ দপ্তরে আসেননি। আমরা তাকে ফোন করে তার দপ্তরে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু মোবাইল ফোনে তিনি একই কথা বলেছেন তার কোনো কিছু করার নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমরা বেলা ১১ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি প্রশাসন ভবনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি।

বেলা ১১টার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ প্রশাসন ভবনে তার নিজ দপ্তরে ঢুকলে তিনি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আমাদের ব্যাপারে পজেটিভ কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসন ভবন থেকে বের হতে দেব না।

এডহক এ নিয়োগপ্রাপ্ত ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারদিন বলেন, রুটিন দায়িত্বে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। গতকাল আমরা তার সঙ্গে তার বাসভবনে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তিনি শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলে আজ বেলা ১১টায় এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন নি। তাই আমাদের নিজ নিজ পদে পদায়ন না করা পর্যন্ত চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অবরুদ্ধ কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ বলেন, পদায়নের বিষয়টি আমার সাথে সংশ্লিষ্ট না। আর মন্ত্রণালয়ের যেহেতু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না ।

জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে রয়েছেন তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

তবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।