রাজশাহীতে যেভাবে বিক্রি হয় শিশুটি, জানালেন ক্রেতা নি:সন্তান দম্পতি (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাম জান্নতি ।থাকেন ঢাকায়। গার্মেন্টসে কাজ করেন।বিয়ে হয়েছে ১২ বছর আগে এখনও বাচ্চা হয়নি। তাই বাচ্চার শখে খালা রোকেয়াকে জানান কোন অসচ্ছল পরিবার বাচ্চা দত্তক দিবে কিনা। ১০ দিন আগে এসেছেন বোনের বাড়ি রাজশাহীতে বেড়াতে।

একদিন হঠাৎ খালার কাছে খোজ পান একটি বাচ্চা পাওয়া গেছে। দেরি না করে ফোনে জানান স্বামী খোকনকে। খোকন গাইবান্দার সাদুল্লাপুর এলাকার বাসিন্দা।পেশাই অটো চালান।পরদিন স্বামীও চলে আসেন রাজশাহীতে এবং স্বামীর অনুমতিতে ১২ হাজার টাকার বিনিময়ে বৃহস্পতিবার রাতে ৫ থেকে ৭ মাসের বাচ্চাটি কিনে নেনে জান্নতি।

তিনি জানান, সম্পূর্ন টাকাটি নিয়ে যায় বাচ্চার মা।তিনি স্টেশনে থাকেন। দারিদ্রতার কারণে স্বামীকে মেডিকেলে ভর্তি করতে পারছিলেন না তাই শিশুটিকে বিক্রি করেছেন।

এবিষয়ে খালা রোকেয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি সিমাকে জানান একটি বাচ্চার জন্য।সিমা পতিতাবৃত্তির কাজ করেনে। ছিন্নমূল ও শারীরিক প্রতিবন্ধি দালাল এই নারী নগরীর ভদ্রা মোড়ের পূর্বে রেললাইন সংলগ্ন বস্তিতে বসবাস করেন। এর আগেও একটি শিশু বিক্রি করেছেন সিমা।

সিমা জানান, শ্যামলি নামের একজন পতিতা বাচ্চাটি বিক্রি করতে চাইলে তিনি তাকে বস্তিতে নিয়ে আসেন এবং দর কষাকষির একটা পর্যায়ে ১২ হাজার টাকায় শিশুটি বিক্রি হয়।শ্যামলি শিরোইল কলোনী সংলগ্ন রেলের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের আশপাশে বসবাস করেন।

বস্তিতে থাকা রেলের ওয়েম্যান সিরাজুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিভিন্ন সময় বস্তিতে শিশু বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. খলিল বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে বস্তিতে বিক্রি হওয়া শিশুর বয়স ৫ থেকে ৭ মাস বলে শুনেছি। এই বয়সের শিশু কেউ হয়তো কোনো মায়ের কোল থেকে চুরি করে নিয়ে এসে বিক্রি করেছে। বস্তিতে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।

বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ সাংবাদিকের কাছে শিশু বিক্রির ঘটনা জানার পর সত্যতা নিশ্চিতে সাথে সাথে ওই বস্তিতে পুলিশ পাঠান। এরপর তিনি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন এবং সাংবাদিকে জানান অভিযুক্তরা এখন চন্দ্রিমা থানায় অবস্থান করছে।

এদিকে চন্দ্রিমা থানার ওসি সিরাজুম মনির জানান, যেহেতু ঘটনাস্থল বোয়ালিয়া থানা এলাকার মধ্যে, তাই তাদের উচিত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা। বোয়ালিয়া থানা চাইলে চন্দ্রিমা থানা তাদের সহযোগীতা করবে বলেও তিনি জানান।

স/রি

 

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।