রাজশাহীতে বাড়ছে করোনার চাপ : ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা

আমজাদ হোসেন শিমুল:

বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে করোনা সনাক্তের ক্রমেই উর্ধ্বমুখী। রাজশাহীতে সোমবার (৩১ মে) ২৩১ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করে ১১৩ জনের দেহে করোনা সনাক্ত হয়েছে। সেই হিসেবে আজ রাজশাহীতে করোনা সনাক্তের হার ৪৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর আগের দিন রবিবার (৩০ মে) রাজশাহীতে করোনা সনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। তারও আগের দিন শনিবার (২৯ মে) এই সনাক্তের হার ছিল ৩৭ শতাংশ।

রাজশাহীতে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকহারে বাড়ার পাশাপাশি রাজশাহীর আশেপাশের কয়েকটি জেলার রোগী আসায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডগুলোতে চাপ বাড়ছে। করোনা রোগীর চিকিৎসায় বেড, আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেশনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি না থাকায় রাজশাহীতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

এদিকে রাজশাহীতে মাত্র দুটি পিসিআর ল্যাবে (রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) করোনার নমুনা পরীক্ষা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ দুটি পিসিআর ল্যাবে একসঙ্গে ১৮৮টি করে মোট ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে। তবে পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট থাকলেও পিসিআর ল্যাবের সক্ষতার অভাবে যেহারে রাজশাহী ও এর আশেপাশের জেলাগুলোতে ‘করোনা সাসপেক্টেড’ রোগী দেখা যাচ্ছে সেই তুলনায় নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- বিভাগীয় শহর রাজশাহীর আশেপাশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ ও কুষ্টিয়ায় করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব জেলার রোগীরা রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নিতে ছুটে আসছে। তবে রাজশাহীতেও করোনার চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো হাসপাতাল নেই। রামেক হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য তৈরী করা হয়েছে। রোগীর তুলনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি না থাকায় চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামেক হাসপাতালে কোভিড রোগীদের জন্য ২১৭টি জেনারেল বেড ও ১৫টি আইসিইউ বেড রয়েছে। সোমবার (৩১ মে) রামেক হাসপাতালের জেনারেল বেডে রোগী ছিলো ২০৫ জন (আগের দিন রবিবার ছিল ২০৪ জন) ও আইসিউতে ১৫ জন। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে কোভিড রোগীদের জন্য ১০০ বেড থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন ও আইসিইউ নেই। তাই সেসব হাসপাতাল থেকেও রোগীরা রামেক হাসপাতালে যায়।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. শামীম ইয়াজদানী জানান, প্রতিদিন যেভাবে রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে দিয়ে বাড়ছে, তাতে দুই-একদিনের মধ্যেই শয্যার তুলনায় রোগী বেড়ে যাবে। বর্তমানে আইসিইউয়ের একটি বেডের জন্য ২৬ জন রোগী অপেক্ষায় রয়েছে। আরো দুটি আইসিইউ বেড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যে হারে রোগী বাড়ছে, তাতে ৫০টি আইসিইউ বেড বাড়ালেও রোগী পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কঠিন হবে। তবে রাজশাহীতে এখন অবধি অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দেয়নি। আশা করছি, অক্সিজেন সঙ্কট হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোভিড রোগীর পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদেরও চিকিৎসা দিতে হয়। এই মুহূর্তে আমাদের চিকিৎসকদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। রোগী আরো বাড়লে শয্যা সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসকদের ওপর প্রেসার আরো বাড়বে।’

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইউম তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে টেস্ট আরো বাড়ানো হবে। অন্য জেলা থেকে রোগীরা রাজশাহীতে না আসলে, রাজশাহী মেডিক্যালের ওপর চাপ কমতো। নাটোর, নওগাঁ, চাপাইনবাবগঞ্জের রোগীরাও রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা নেয়, তাই চাপ বাড়ছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কাজ করছে, কিন্তু মানুষ কথা শোনে না।’

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, ‘রাজশাহীতে সংক্রমণের হার গত দুই দিনের তুলনায় আজ বেশি। জনসাধারণকে করোনা বিষয়ে সচেতন করতে রাজশাহী শহরে ৪টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি করোনাকে মোকাবেলা করতে। করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। ’

এএইচ/এস

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।