সর্বাত্মক লকডাউনে রাজশাহীতে ট্রেন চলাচল বন্ধ, টিকিটের টাকা ফেরত নিতে কাউন্টারে ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া রোধে শুক্রবার (১১ জুন) মধ্যরাত থেকে রাজশাহী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী সব যাত্রীবাহী ট্রেন সাত দিন বন্ধ থাকবে বলে বাংলাদেশ রেলওয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক  বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তবে ট্রেনে ভ্রমণের জন্য অনেক যাত্রীই কেটেছিলেন অগ্রিম টিকিট। কিন্তু ট্রেন বন্ধ হওয়ার খবরে তাঁরা আজ শুক্রবার সকালে থেকেই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ভিড় করেন। কাউন্টার থেকে আজ কিছুযাত্রী টাকা ফেরত পেলেও অনেক যাত্রী তা পাননি। আবার অনেকের অনেক বেশী টাকা কেটে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

রাজশাহী নগরীর প্রণয় কুমার বনলতা ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন ১২ জুন সকালের। তিনি টিকিট ফেরত নিতে এসে বলেন, ‘রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে টাকা ফুরিয়ে গেছে, আগামী রোববার আসতে বলা হচ্ছে। এ লকডাউনের মধ্যে কীভাবে আসা-যাওয়া করবো।

এদিকে, ১২ জুন বিকেলে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট কেটেছিলেন রাজশাহীর গোলাম মোর্শেদ। তিনি সকাল থেকে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময়ে তাঁর লাইনের মাত্র তিনজন টাকা পেয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা অনলাইনে টিকিট কেটেছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও যেন এ মহামারিকালে অনলাইনেই টাকা ফেরত দেয়। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে টাকা ফেরত নেওয়া অনেক কষ্ট।

রাজশাহী থেকে চাটমোহর গামী এক যাত্রী বলেন, দুদিন আগে আমি অনলাইনে চাটমোহর যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় টিকিট ক্রয় করেছিলাম। তবে লকডাউন দেয়ার ট্রেন বন্ধ হওয়ায় সেই টিকিট রির্টান দিয়েছি। আমাকে ১১০ টাকা কেটে নিয়ে ১৯০ টাকা রির্টান দিয়েছে। তবে টিকিটের টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে তিনি কাউন্টারে কিছু জিজ্ঞাসা করেন নি।

রাজশাহীর নগরীর বাসিন্দা মেহেদী হাসান বলেন, আমি বনলতা ট্রেনের টিকিট কেটেছিলাম। তবে লকডাউন দেয়ায় ঢাকা যাওয়া হলো না। তাই আজ জুমুয়ার নামাজ পর কাউন্টার থেকে টিকিট দিয়ে টাকা ফেরত নিয়েছি।

টাকা কেটে নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শুনেছি সকালে অনেকেই টিকিটের টাকা ফেরত পান নি। আবার অনেকের টাকা বেশী করে কেটে নেয়া হয়েছে। তবে আমার ভাগ্য হয় তো ভাল ৭১৫ টাকায় আমাকে ‘ব্যাক’ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে হঠাৎ ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা সকালে থেকেই কাউন্টার গুলোতে ভিড় করেছেন। তবে শুক্রবার হওয়ায় খুব বেশি ‘ক্যাশ’ টাকা তাঁদের ছিল না। যা ছিল, তা যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে। ১৫ জুন পর্যন্ত যাত্রীরা প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাবেন। এ টাকা আগামী রোববার থেকে স্টেশনে দেওয়া হবে। এ সময়ে যাত্রীদের আসার আহ্বান জানানো হয় রেলওয়ে স্টেশন থেকে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুক্রবার বিকেল থেকে রাজশাহী স্টেশনের ট্রেনগুলো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে চলবে ট্রেন। যাত্রীদের আজকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্টেশনে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁরা অনলাইনে টিকিটের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না।

লকডাউনে স্টেশনে এসে যাত্রীরা কীভাবে টাকা নেবেন, এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ১৫ জুনের পরও যাত্রীরা টিকিট দেখানো সাপেক্ষে টাকা ফেরত নিতে পারেন।

এর আগে, করোনাভাইরাসে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় শুক্রবার (১১ জুন) বিকেল ৫টা থেকে ১৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত সাত দিনের সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীর সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে এ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে এ বিষয়ে ব্রিফ করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, জেলায় পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ও মৃত্যুহার বিশ্লেষণ করে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লকডাউনের সময় গণপরিবহন ও দোকানপাটসহ বন্ধ থাকবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ থেকে কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না, রাজশাহী থেকেও কোনো যানবাহন জেলার বাইরে যাবে না। তবে রোগী ও অন্য জরুরি সেবাদানকারীর ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রাজশাহীর আটজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছয়জন ও নাটোরের একজন।  মৃত ১৫ জনের মধ্যে ৭ জন করোনা আক্রান্ত এবং ৮ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এনিয়ে গত ১ জুন সকাল ৬টা থেকে ১১ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১০৭ জন। এর মধ্যে ৬৩ জনই মারা গেছেন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। এর মধ্যে ১ ও ২ জুন সাতজন করে ১৪ জন, ৩ জুন নয়জন, ৪ জুন ১৬ জন, ৫ জুন আটজন, ৬ জুন ছয়জন, ৭ জুন ১১ জন, ৮ জুন আটজন, ৯ জুন আটজন, ১০ জুন ১২ জন এবং সর্বশেষ ১১ জুন ১৫ জনের মৃত্যু হয় বলে জানান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস।
স/অ
শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।