রাজশাহীতে ছাদবাগানী ও সাধারণ চাষীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ


নিজস্ব প্রতিবেদক :
মেট্রাপলিটন কৃষি অফিসারের কার্যালয়, বোয়ালিয়া, রাজশাহী এর আয়োজনে সোমবার রাজশাহী সিটির বোয়ালিয়া অংশের ৩০ জন ছাদবাগানী ও সাধারণ চাষীদের নিয়ে দিনব্যাপী মাশরুমের গুরুত্ব ও উৎপাদন কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর প্রশিক্ষণ হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
মেট্রাপলিটন কৃষি অফিসার, কামরুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপপরিচালক মো: মোজদার হোসেন এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরেজমিন উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা এর পরিচালক মো: তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী।

উক্ত প্রশিক্ষণে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাস প্রকল্প পরিচালক ড. মোসা: আখতার জাহান কাঁকন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চল, রাজশাহীর অতিরিক্ত পরিচালক মো: শামছুল ওয়াদুদ।

অতিথিবৃন্দ উল্লেখ করেন: রাজশাহীসহ বিভাগীয় শহরের লোকসংখ্যা অনুযায়ী যে পরিমাণ গাছ থাকার কথা, তা লক্ষ্য করা যায় না। ছাদ কৃষি পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষার পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতিতে নতুন সংযোজন হিসেবে আশা জাগিয়েছে। ছাদ কৃষির মাধ্যমে বাগান বিস্তারে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। দালান-কোঠার সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি তাপমাত্রা হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে। ছাদ কৃষির প্রতি নগরবাসীর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। ফলে বহুমাত্রিক সুবিধা ও সাফল্যের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ছাদ কৃষিতে একদিকে যেমন বাগান পরিচর্যার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা আসে, তেমনি ছাদে সবুজ আভরণে পরিবেশের মলিনতা কাটিয়ে সবুজ সতেজতা আনে। তাঁরা আরো বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি ও ধর্মের মানুষের কাছে মাশরুম একটি জনপ্রিয় খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ন।

এতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ মাছ ও মাংসের তুলনায় বেশী এবং প্রচলিত সবজীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুন। মাশরুমে আমিষের পরিমান আলু থেকে দ্বিগুন, টমেটো থেকে চারগুন এবং কমলা লেবুর থেকে ছয়গুন বেশী। মাশরুমের পুষ্টি ও ঔষধি গুণের কারণেই এই চাহিদা দিনে দিনে বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের এখন এমন কোন সবজি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা দরকার যা চাষীরা তাদের ঘরকে ব্যবহার করে উৎপাদন করতে পারেন, আর তা কেবল মাশরুম চাষের মাধ্যমেই সম্ভব। সুস্থ-সুন্দর জীবনযাপন করতে হলে মাশরুম চাষের কোন বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে মাশরুম চাষের স্পুন ও সনদ বিতরন করা হয়।