রাজশাহীতে আলুচাষে এবার বাড়ছে খরচ, বীজের দাম দ্বিগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আলুর দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এবার বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এ বছর বীজের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুন হওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি খরচ হবে আলুচাষে। পাশাপাশি বেড়েছে আলু সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বস্তার দামও। এছাড়াও এ বছর জমি লিজের মূল্যও বেড়েছে। ফলে এবার রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রাও কমেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর অন্তত এক হাজার হেক্টর জমিতে আলুচাষ কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার কারণে লক্ষ্যমাত্রাও কমেছে এবার।

রাজশাহী কৃষি সম্প্ররাণ অধিপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র মতে, এ বছর রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৬৭৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার হেক্টর, নওগাঁয় ২০ হাজার ৯৬০ হেক্টর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ২৫০ হেক্টর এবং নাটোরে ৪৬৭ হেক্টর জমিতে আলুচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চার জেলায় গত বছর আলুচাষ হয়েছিলো ৫৮ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমিতে। গতবার হেক্টর প্রতি প্রায় ২৩ দশমিদক ৫৯ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছিলো। এ বছরও আলুচাষের জন্য আবহাওয়া উপযোগী থাকলে একই হারে উৎপাদন হবে। সেই হিসেবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৭৯ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে রাজশাহীর চার জেলায়।

এদিকে, রাজশাহীর পবার আলুচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আলুচাষে খরচ বাড়বে। এছাড়াও এবার আলু সংরক্ষণের জন্য বস্তাপ্রতিও দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। গতবার যে বীজ ছিলো ৩৫ টাকা কেজি, এবার সেখানে দাম বেড়ে হয়েছে ৫৩-৫৬ টাকা কেজি। আবার এ গ্রেডের আলু বীজ গতবার যেখানে ছিলো ৩৭ টাকা, এবার সেখানে হয়েছে ৫৭-৫৮ টাকা। ফলে এবার আলুচাষে খরচ বাড়বে।’
তিনি আরও জানান, আলুচাষিরা সাধারণত দাম কম পাওয়ার আশায় আগাম বস্তা কিনে রাখেন। সেই হিসেবে গত বছর এই সময়ে যখন প্রতিটি বস্তার দাম ছিলো ৪৭ টাকা এবার সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। আলু ওঠার সময় এ দাম আরও বাড়বে বলেও শঙ্কা করছেন কৃষকরা।
তানোরের আলুচাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই উপজেলায় গত বছর এক বিঘা জমি লিজের মূল্য ছিলো ১০ হাজার টাকা। এবার সেখানে হয়েছে ১৩-১৫ হাজার টাকা। আলুচাষিদের অধিকাংশই জমি বর্গা বা লিজ নিয়েই চাষ করেন। সেই হিসেবে এবার জমি লিজের জন্যেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের।’

তিনি আরও বলেন, এবার শেষদিকে এসে আলু সংরক্ষণকারী চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পাওয়ায় তারা অনেকটা খুশি। আর এর প্রভাব পড়েছে বীজে গিয়ে। বাজারে যে বছর আলুর দাম কম থাকে, সে বছর বীজের দামও কম থাকে। এমনকি ২০১৭-১৮ সালে বীজ নেওয়ার লোক পাওয়া যায়নি তেমন। কিন্তু এ বছর আলুর দাম ভালো থাকায় বেড়েছে বীজের দাম। এই অবস্থায় আশা করা যাচ্ছে সামনে বারও আলুর দাম ভালো হবে।’

দুর্গাপুরের আলুচাষি আকবর হোসেন বলেন, ‘গত বছর এ উপজেলায় প্রতি বিঘা জমির লিজের মূল্য ছিলো সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা। কিন্তু এ বছর সেখানে ২৫-৩০ হাজার টাকা বিঘা নিতে হচ্ছে আলুচাষের জন্য। সেইসঙ্গে বেড়েছে এবার শ্রমিকদের মূল্যও। গতবার একজন শ্রমিককে যেখানে দিতে হয়েছে ৪০০ টাকা। এবার সেখানে ৪৫০ টাকা হারে দিতে হচ্ছে। এর বাইরে আলু বীজ ও বস্তার বাড়তি দামের কারণে এ বছর আলু উৎপাদনে খরচ বাড়বে।’

এদিকে রাজশাহী কৃষি সম্প্ররাণ অধিপ্তরের উপপরিচালক খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘এ বছর আলুর দাম ভালো হওয়ায় বীজের দাম কিছুটা বেড়েছে। যেসব কৃষকদের নিজস্ব বীজ নাই, তাদের ক্ষেত্রে আলুচাষে এ বছর খরচ বাড়বে। তবে অধিকাংশ কৃষকই আলুচাষ করেন কেনা বীজ দিয়ে। তাতে করে এবার ধরে নেওয়া যায় আলুচাষে খরচ বাড়বে এবার। তবে দাম ভালো পেলে কৃষকরা পুশিয়ে নিতে পারবেন ।’

স/আর

 

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।