রাজনীতির হাতিয়ার হচ্ছে মানবাধিকার ইস্যু

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

‘সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার’ স্লোগানে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। গত কয়েক বছর বাংলাদেশে দিবসটি অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পালিত হচ্ছে। গুমের শিকার মানুষের স্বজন ও সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ হয়ে দিবসটি পালনে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মানবাধিকার দিবস ঘিরে বিরোধী পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার ইস্যুটা রাজনীতিকীকরণ হয়ে গেছে।

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। জাতিসংঘ দিনটিকে বিশ^ মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয় ১৯৫০ সালের ১০ ডিসেম্বর। দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মানববন্ধন, আলোচনাসভাসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মানবাধিকার ইস্যুটিকে সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো সত্যিকার অর্থে এখনো প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নয়। তাদের মতে, মানবাধিকার দিবসকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনরা এর পাল্টা অবস্থান তৈরি করতে চায়।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, একটি দল ক্ষমতার বাইরে থাকলে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলে। কিন্তু ক্ষমতায় গেলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। কারণ ক্ষমতা টিকে থাকার জন্য জনমতের গুরুত্ব কমে গেছে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতিতে সম্প্রতি উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ১১০টি দেশের তুলে ধরা সুপারিশমালা

চূড়ান্ত করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। সংস্থাটির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে দমনপীড়ন চালানো হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে রাজনৈতিক কর্মীদের আন্দোলনেও চলছে দমনপীড়ন। এ ছাড়া সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের নেতাদের বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সব নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে ও বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় প্রতিনিয়ত আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর এ দেশে মানবাধিকার বলে আর কিছু ছিল না। সেই কালরাতে আমাদের পরিবারের ১৮ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ মানবাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মানবাধিকার শাশ্বত ও সর্বজনীন অধিকার; জাতি ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সারাদেশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটির উদ্যোগে মানবাধিকার দিবস উদযাপন করা হবে।