বৃহস্পতিবার , ১৬ মে ২০২৪ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ ও দুর্নীতি
  3. অর্থ ও বাণিজ্য
  4. আইন আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি
  7. খেলা
  8. চাকরি
  9. ছবিঘর
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দুর্ঘটনা
  13. ধর্ম
  14. নারী
  15. নির্বাচিত খবর

মুক্তিযুদ্ধের উজ্জীপনায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র

Paris
মে ১৬, ২০২৪ ৩:২২ অপরাহ্ণ

ওয়ালিউর রহমান বাবু :
ছাত্র নেতা কাজী আরিফ ঝুঁকি নিয়ে ২৫মার্চ সন্ধ্যার পরে স্বাধীনতার স্থাপতি বঙ্গবদ্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ঢাকার পিলখানা ইস্টপাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) হেডকোয়াটার পৌছে দেন। প্রস্তুত থাকা সুবেদার মেজর শওকত আলী (শহিদ) তার সহকর্মী আব্দুল মোতালেব কে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়ি থেকে ব্লাক সেটের মাধ্যমে সেটি প্রচার করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বেলাল মোহম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম সন্দীপ, প্রমূখ ঝুঁকি নিয়ে চট্রগ্রাম কালুরঘাটে বেতারকেন্দ্রের রিলে ষ্টেশনে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চালু করার পর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চট্টগ্রামের আব্দুল মান্নান তার বক্তব্য দিয়ে সকলকে উজ্জীবিত করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বেলাল মোহম্মদের দেয়া তথ্যে ২৭মার্চ এখান থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দেশবাসীকে স্বাধীনতার সংগ্রামে অংশ নিয়ে পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আহ্বান জানিয়ে ভবনটি রক্ষায় স্বাধীনতাকামী এক প্লাটুন সৈনিক নিয়োজিত করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র (চট্রগ্রাম কালুরঘাট রিলে সেন্টার) ধ্বংশ করে দিলে এক কিলোওয়াট ট্রান্সমিটার অক্ষত থেকে যাওয়ায় কয়েকজন ঝুঁকি উপেক্ষা করে সেটি সীমান্তের ওপারে নিয়ে গিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার বাগড়া জঙ্গলে স্থাপন করেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র সাংবাদিক কামাল লোহানীয় দেয়া তথ্যে জানা যায়, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বেতার কেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনা করে ভারত সরকারের কাছে পঞ্চাশ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটারের জন্য অনুরোধ করেন। এই সহযোগিতা পেয়ে টাংগাইলের রাজনৈতিক ব্যক্তি আব্দুল হান্নান কে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও স্বাধীন বাংলা বেতারের দায়িত্ব দিয়ে বাংলা বেতারের কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হলে, স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের অন্যতম ব্যক্তিত্ব চট্র্রগ্রাম থেকে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বেলাল মোহাম্মদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ একে খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমুল রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদুল জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাবিফুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশফাকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের সুলতান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহীদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা টি এইচ শিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান মনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবদুস সাকেব প্রমূখ স্বাধীন বাংলা বেতারের কার্যক্রম নতুন করে শুরু করতে তৎপর হন।

পাবনা জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল কাদের ও স্বাধীন বাংলা বেতারের বিশেষ ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম আর আক্তার মুকুল ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিনিয়র সাংবাদিক কামাল লোহানীর দেয়া তথ্যে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তাজউদ্দিন আহমেদের প্রস্তাবে কলকাতার বালিগঞ্জের ৫৭/৮ নং যে বাড়িটিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গের থাকার ব্যবস্থা করা হয় সেখান থেকে স্বাধীন বাংলা বেতারের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হল।

ঢাকা থেকে চলে যাবার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আশফাকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এইচ সিকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের সুলতান গানের টেপগুলি বালিশের মধ্যে নিয়ে যাওয়ায় সেগুলি নিয়ে সমস্যা হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহের সুলতান অনেক চেষ্টার পর সেগুলি কার্যকারী করে তুলে নিজেই অনুষ্ঠানের রেকডিং এর দায়িত্ব নিলে, সকলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

২৫ মে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে সকাল ৬:৫৯ মিনিটে “জয়বাংলা বাংলার জয়” স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংকেত সংগীতের পর সকাল ৭টায় আশফাকুর রহমানের স্বকণ্ঠে ভেসে এল ‘আসসালামু আলাইকুম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। অনুষ্ঠান প্রচারিত হচ্ছে মিডিয়াম ওয়েব ৩৬১.৪৪ মিটার ব্যান্ডে ৮০০ কিলো হার্টসে’ সকালের প্রথম অনুষ্ঠান চলার পর সন্ধ্যায় ৭টা থেকে অনুষ্ঠান চলতে থাকে। স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে রুপান্তরিত হল।

সীমান্ত পার হয়ে চলে যাওয়া কণ্ঠশিল্পী, নাট্যশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী উপস্থাপক, বেতার টেলিভিশনের কলাকৌশলী, গীতিকার, সুরকার, প্রযোজক, লেখক, সাংবাদিক, চলচিত্রের সাথে সংশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্বাধীন বাংলা বেতারের সাথে সম্পৃক্ত হলেন। রাজশাহী থেকে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্যকার গীতিকার মোস্তাফিজুর রহমান গামা (জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত), বীর মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠশিল্পী রেজাউল সরিম রবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠশিল্পী মোর্শাাদ আলী (অ্যামেরিকায় কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন কারী শিল্পি) নওগাঁ থেকে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠশিল্পী আফরোজা মামুন তার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মামুনুল চৌধুরী (রাজা চৌধুরী) সহ বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিকমনা ব্যক্তিবর্গ ভূমিকা রাখতে থাকেন। স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পীরা বেতারে অনুষ্ঠান ছাড়াও অর্থসংগ্রহ শরণার্থীদের জন্য পোষাক সংগ্রহ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালাতে থাকেন। কোরআন পাঠ, ইসলামের দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এম. আর আক্তার মুকুলের চরম পত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা কল্যান মিত্রের লেখা অভিনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজু আহমেদের পরিচালনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান ইমামের পরিচালনায় জল্লাদের দরবার, অগ্নিবীণা, পিন্ডির প্রলাপ, বজ্রকণ্ঠ, রঙ্গাঙ্গনের চিঠি, পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে দর্পণ অনুষ্ঠান প্রচার হতে থাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা পারভীন হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী জাকের, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসরিন আহমেদ নিলু ইংরেজী অনুষ্ঠানে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ সিদ্দিক উর্দূ অনুষ্ঠানে ভূমিকা রাখেন।

সকাল ও রাতের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুপুরের অনুষ্ঠানও চলতে থাকে। স্বাধীন বাংলা বেতারের বার্তা সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল লোহনীর দেয়া তথ্যে, বালুগঞ্জের যে ভবনটি বাংলা বেতার পরিচালনার জন্য দেয়া হয় সেই ভবনটিতে কেবলমাত্র অনুষ্ঠান রেকর্ডিং করার পর টেপ গুলি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বি.এস.এফ) এর সহযোগিতায় সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে আসা হলেও কোথা থেকে অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছে তা কঠোরভাবে গোপন রাখা হতো, যা অনেকের অজানা। চলমান এই ট্রান্সমিটারটি কখনো কখনো সকলের অগোচরে সীমান্ত পার হয়ে মুক্ত অঞ্চলে আনা হতো। একদিন কলকাতায় বন্ধ ডাকা হলে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্টুডিওতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে সেদিন অনুষ্ঠান চলবে না বন্ধ থাকবে তা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই অনুষ্ঠান রেকর্ডিং করে নেয়া হয়। ১৬ডিসেম্বর পাকিস্তানী সৈন্যদের আত্মসমর্পনের খবরে বেতারের কার্যক্রম স্থাগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিন বিকেল ৪:৩০মি. বিশেষ অনুষ্ঠানটি তিনি নিজেই লিখে নিজেই পাঠ করেন। প্রচার হতে থাকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলামের তাৎক্ষণিক লেখা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শুজেয় শ্যামের সুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা কণ্ঠশিল্পী অজিত রায়ের নেতৃত্বে সহশিল্পীদের গাওয়া ‘বিজয় নিশান উড়ছে ওই বাংলার ঘরে ঘরে’।

মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি সেক্টর স্বাধীন বাংলা বেতারের ভূমিকা অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক গৌরবের।লেখক মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক রাজশাহী, ০১৯১১-৮৯৪২৬০।

কলকাতার বালিগঞ্জ ৫৭/৮ সার্কুলার রোডে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের পরিচালনা ভবন

সর্বশেষ - মতামত