মানুষের দোরগোড়ায় রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিন

দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিকিৎসা। করোনা ভাইরাস আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। এর মধ্যে খুবই দুর্বল রোগ নির্ণয়ের খাত।

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। চিকিৎসা, সেবা ও রোগ নির্ণয়। চিকিৎসা প্রদান করেন চিকিৎসকরা। সেবা দিয়ে থাকেন নার্সরা। রোগ নির্ণয় করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি স্বেচ্ছাচারিতা, লাঞ্ছনা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় প্রতিনিয়ত।

এমনকি গেজেটভুক্ত পদ “মেডিকেল টেকনোলজিস্ট” তাও সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে কষ্ট হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কিছু কিছু কর্মকর্তাদের। যা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পীড়া দেয় এবং হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিন জন নার্স ও পাঁচ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকার কথা। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৩০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত আছেন সেই অনুপাতে এই মুহূর্তে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দরকার ১ লক্ষ ৫০ হাজার জন। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য করোনার সম্মুখ সারির যোদ্ধা, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা কারী মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অধীনে পদ‌ই রয়েছে ৭৯২০ জন (সব বিভাগ মিলে) আর কর্মরত আছে ৫১৮৪ জন (সব বিভাগ মিলে) মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবরেটরি মেডিসিন) বিভাগে পদ সংখ্যা রয়েছে ২১৮২ টি। এর মধ্যে কর্মরত আছে ১৪১৭ জন।

প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে এই সামান্য লোকবল দিয়ে কিভাবে রোগ নির্ণয় করবেন? করোনা আসার পর অনেক অসঙ্গতি দেখতে পেয়েছি সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রিক প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে। টেস্ট না করে রিপোর্ট, নমুনা নিয়ে এক সপ্তাহ পর রিপোর্ট প্রদান, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সঠিক সময়ে করোনার নমুনা দিতে না পারা, বিভিন্ন জেলায় এক থেকে দুই জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজ করে পিসিআর ল্যাবে আরো অনেক অজানা তথ্য আছে যা আড়ালেই থেকে যায়। এই পুরো অনিয়ম ও অসঙ্গতির একটি মাত্র কারণ তা হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না দেয়া।

স্বাস্থ্য খাত যারা পরিচালনা করেন তাদের মুখে বারবার শুনি স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির কথা আমার প্রশ্ন শুধুমাত্র চিকিৎসক নার্স নিয়োগ দিয়ে কি স্বাস্থ্যখাত উন্নতি করবেন? হ্যাঁ মানছি চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি আছে। চিকিৎসকের অনুপাতে নার্স নিয়োগ হয় তাহলে কেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ হয় না? নাকি রিজেন্টের মত হাসপাতাল তৈরীর জন্য এই অসঙ্গতি? যেখানে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করে রেখে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য করছেন এর দায়ভার কে নেবে? যেখানে প্রয়োজন সেখানে কেন নেওয়া হবে না? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে যত লাগবে তত কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও সঠিক ভাবে মানা হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিলে তখন সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে সুচিকিৎসা পাবে দেশের মানুষ।

কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন ও পৌরসভা সাব সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ সব জায়গায় ২৪ ঘন্টা রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে নিজেদের খরচ নিজ নিজ হাসপাতাল বহন করতে পারবে।

সরকারের অনেক চেষ্টা ও সদিচ্ছা রয়েছে কিন্তু কিছু দুর্নীতিবাজ আমলাদের কারণে স্বাস্থ্য খাত এগিয়ে যায় না‌। পাশাপাশি সমালোচনায় পড়তে হয় সরকারকে। আমি মনে করি সরকারকে সমালোচিত করার অধিকার কোন আমলার নেই।

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই গবেষণা ও রোগ নির্ণয়ের খাতকে শক্তিশালী করুন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিন। তবেই স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে এবং সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে সুচিকিৎসা পাবে দেশের জনগণ।

 

মোঃ আবুল কালাম আজাদ

সভাপতি বেকার এন্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশন (রাজশাহী বিভাগ)

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।