মনিরুজ্জামান শেখ রাহুল এর কবিতা “আকাশ বাণী”

নিউজ ডেস্ক

আকাশ বাণী
মনিরুজ্জামান শেখ রাহুল


নক্ষত্রের প্রশ্ন,
“ও ভাই, তোমার
কি আছে কোন শেষ?
সৃষ্টিতে তুমি বিস্তৃত
এবং অনিঃশেষ।”

আকাশ বলে, “সৃষ্টিতে তোমাদের
অবদান রয়েছে অপার,
আলো ও তাপে জীবন সঞ্চার করে
উজ্জ্বল কিরণের সম্ভার।”

ভূমি জিঙ্গাসা করে,
“বিচিত্র হরেক বস্তু নিয়ে
সময়ের চক্রে চলো,
তুমি কেন এত নিঃস্বার্থ
এবার সেটা বলো।”

আকাশ কহে, “তোমার শরীরে
থাকা বৃক্ষসমূহে ফোটে ফুল,
সমুদ্রের স্রোত করে না ভুল।
পর্বতের দৃঢ়তা বিস্তর বহুল।”

সমুদ্র বলে, “আস্ফালিত এই
চপল স্রোতের আছে শেষ,
কিন্তু তোমার সকল মুগ্ধতা
আমাকে নাড়ায় বেশ।”

আকাশ বলে, “তুমি সবসময়ই
করো সৃষ্টিতে প্রাণসঞ্চার,
নিজ প্রতিবিম্ব তোমার জলে দেখি,
তাই তোমার আভা নিজ অঙ্গে মাখি।”

বৃক্ষ বলে, “নক্ষত্র-চাঁদ তোমার
অমোঘ অলংকার,
সর্বক্ষণ তোমাকে দেখতে
লাগে বেশ চমৎকার।”

আকাশ বিবৃতি দেয়,
“কোনটাই আমার নয়,
চাঁদ বা নক্ষত্র,
ফুলে-ফলে তোমার প্রতিভা
সৃষ্টিতে সর্বত্র।”

চন্দ্র শুধায়, “আজ রূপালী
কিরণ হতে চাই তোমার মতো,
হৃদয়ে আজ সঞ্চিত কষ্ট শত।
পৃথিবীর অধীনে থাকবো কত?”

আকাশ কহে, “সকল সৃষ্টি
তো থাকে স্রষ্টার অধীনে,
জীবনে কি সফলতা পাবে
ধৈর্য্য ও পরিশ্রম বিনে?”

অগ্নি বলে, “আমি থাকি বজ্রে,
আর থাকি দাবানলে,
ক্রোধিত হলে নিশ্চিহ্ন করি
আপন কর্মবলে।”

আকাশ বলে, “তোমার কর্মগুণে
সকল বস্তু পুড়ে,
দেখেছো কি, তোমার প্রতিভা
জাগে সৃষ্টিজুড়ে।
অন্যায়কে পুড়াতে হবে, ন্যায়কে নয়,
তবেই সৃষ্টিতে হবে তোমার বিজয়।”

বায়ু বলে, “তোমার মুগ্ধতা
শিহরিত করে নিজ অঙ্গ,
জীবনের সকল দুঃখকে
করে তা ভঙ্গ।”

আকাশ গাহে, “তুমিও তো
প্রভাব রাখো জগতের হিতে,
তোমার শীতলতা হৃদয়কে
নাচায় এক রম্য সংগীতে।”

পর্বত বলে, “শতবর্ষ যাবৎ
তোমাকে সর্বক্ষণ করেছি দর্শন,
তোমার সৌন্দর্য্যরে আস্ফালন
প্রকৃতিতে করেছি অর্পণ।”

আকাশ জানায়, “দেখেছি আমি
তোমার নেই কোন অহংকার,
মমতাধারী তুমি, জগতে
করেছো অনেক পরোপকার।”

পাখি বলে, “তোমায় দেখতে দেখতে
আমি উড়তে থাকি,
তোমার বিহ্বলতায় অবাক হয়
এই দুই আঁখি।”

আকাশ কয়, “ঝাঁক বেঁধে
উড়ে যাও তোমরা,
ভাতৃত্ব দেখেছি সর্বকালে,
বাহারি পত্র-পল্লব যেমন
ছেয়ে যায় বৃক্ষের ডালে।”

মেঘ জিঙ্গাসা করে,
“জগতে আমি বৃষ্টি বর্ষণ করি,
তাই ক্ষমা চাই, মিনতি ধরি।
তোমাকে ঢাকতে হয় কিছুক্ষণ,
তাতে ব্যথিত হয় তোমার মন?”

আকাশ বলে, “আমরা তো
সকলে মিলেই প্রকৃতি,
কেন দেখবো নিজ নিজ
কর্মের আকৃতি?
সৃষ্টিকে রক্ষা করতে হবে
আপন কাজে,
তবেই প্রকৃতি গড়ে উঠবে
উজ্জ্বল সাজে,
তাই আমাদের কর্ম হোক
সৃষ্টিকে রক্ষা করতে,
আমরা থামবো না কখনও
নিজ পথে চলতে।”

লেখকঃ মনিরুজ্জামান শেখ রাহুল, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর।

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।