ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর রাবি ক্যাম্পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। শুধু শিক্ষার্থী নন, তাদের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকরাও।

আজসোমবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয় ভর্তি পরীক্ষা। তাই সকাল ৭টা থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে শুরু করেন। সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনগুলো খুলে দেওয়া হয়। এরপর ভবনগুলোর সামনে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। আবার অনেকে নিজের পরীক্ষার কেন্দ্র খুঁজতে শুরু করেন।

May be an image of 2 people, people sitting, headscarf and outdoors

এদিকে দুপুরে ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। এ কারণেই জালিয়াতি চক্র সফল হয়নি।

May be an image of 11 people, people sitting and people standing

এছাড়া সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) যেভাবে বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে, সেটা নিয়ে আমরাও পজিটিভলি চিন্তা করছি। তবে আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে যাব না। স্বায়ত্তশাসিত চার বিশ্ববিদ্যালয় মিলেই সব কিছু করব। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমাদের আগামী একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ের ওপর।

অপরদিকে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাবির ভর্তি পরীক্ষা। যা  চলবে আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এবার রাবিতে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়াই করবে ৩১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী।

May be an image of 12 people, people sitting, people standing and text that says 'Association rmacy ahi'

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টার সূত্রে জানা যায়, তিন ইউনিটে বিশেষ কোটা বাদে ৪ হাজার ১৭৩টি আসনের বিপরীতে চূড়ান্ত আবেদন জমা পড়েছে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৪৬ টি। এই হিসে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়াই করবে ৩১ জন ভর্তিচ্ছু। ‘এ’ ইউনিটে ৪৩ হাজার ৫৫৮ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৩৯ হাজার ৮৯৫ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৪৪ হাজার ১৯৪ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত আবেদন করেছেন। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নির্ধারিত আসন ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার।

May be an image of 4 people, people sitting and indoor

সোমবার ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে শেষ হয় সকাল সাড়ে ১০টায়। যেখানে বিজ্ঞানের গ্রুপ-১ এর ১০০০১ থেকে ২৪১৯৩ রোলধারী শিক্ষার্থী নেন। একই সঙ্গে অ-বিজ্ঞান গ্রুপ-১ এর ৭০০০১ থেকে ৭১৬১৬ রোলধারী শিক্ষার্থী অংশ নেবেন এই ইউনিটের পরীক্ষায়। ‘সি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টায়। এই ধাপে পরীক্ষায় অংশ নেবেন বিজ্ঞানের গ্রুপ-২ এর ৩০০০১ থেকে ৪৪১৯৩ রোলধারী শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় শিফটের পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এ ধাপে বিজ্ঞানের গ্রুপ-৩ এর ৫০০০১ থেকে ৬৪১৯২ রোলধারী শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) পরীক্ষায় বসবেন ‘এ’ (মানবিক) ইউনিটের ভর্তিচ্ছুরা। এই ইউনিটেরও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে তিনটি শিফটে। বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবেন। প্রথম শিফটের পরীক্ষা সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে ১০টা পর্যন্ত চলবে। এতে অংশ নেবেন গ্রুপ-১ এর ১০০০১ থেকে ২৪৫২০ রোলধারী শিক্ষার্থীরা। একই ইউনিটের গ্রুপ-২ এর পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হবে দুপুর ১টায়। এই গ্রুপে অংশ নেবেন ৩০০০১ থেকে ৪৪৫১৯ রোলধারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া গ্রুপ-৩ এর পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এই ধাপের পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৫০০০১ থেকে ৬৪৫১৯ রোলধারীরা।

এছাড়া বুধবার (৬ অক্টোবর) ‘বি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাণিজ্য গ্রুপ-১ এর ১০০০১ থেকে ১৮৮১৮ পর্যন্ত এবং অ-বাণিজ্য গ্রুপ-১ এর ৫০০০১ থেকে ৫৭৪২০ রোলধারীরা পরীক্ষায় বসবে। দ্বিতীয় ধাপে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষায় বসবে বাণিজ্য গ্রুপ-২ এর ৩০০০১ থেকে ৩৮৮১৭ পর্যন্ত এবং অ-বাণিজ্য গ্রুপ-২ এর ৭০০০১ থেকে ৭৭৪২০ রোলধারী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া তৃতীয় ধাপে বিকেল ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষায় বসবে শুধু অ-বাণিজ্য গ্রুপ-৩ এর ৯০০০১ থেকে ৯৭৪২০ রোলধারী পরীক্ষার্থীরা।

ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের এসএমএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষার রোল নম্বর ও পরীক্ষা কক্ষের তথ্য জানানো হয়েছে। পরীক্ষা কক্ষে কেবলমাত্র প্রবেশপত্র ও পরীক্ষা সংক্রান্ত উপকরণ ও কাগজপত্র ছাড়া অন্য কিছু যেমন, ইলেকট্রনিক যন্ত্র ইত্যাদি আনা যাবে না। অসদুপায় অবলম্বনসহ যে কোনো ধরনের অপরাধের বিচারে সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন শহরের দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে আগত সব গাড়ি কাজলা গেট দিয়ে, কাটাখালী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে আগত সব গাড়ি বিনোদপুর গেট দিয়ে প্রবেশ করবে এবং মেইন গেট দিয়ে বের হবে। চারুকলা গেট দিয়ে সব রকম যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। স্টেশন বাজার গেট দিয়ে গাড়ি প্রবেশ করে চারুকলা গেট দিয়ে বের হয়ে যেতে পারবে।

স/অ