ব্যবসায়ীদের দাবি ট্যানারির কাছে পাওনা আদায় না হওয়ায় বাজারে ধস

নিউজ ডেস্ক
  • 32
    Shares
দাম না পেয়ে পদ্মা নদীতে চামড়া ফেলে দেয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার মখলেসুর রহমান কোরবানি দেয়ার জন্য ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছিলেন। তবে ঈদের দিন কোরবানির পর সারা দিন ফেলে রেখে সেই গরুর চামড়া তিনি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন মাত্র ৩০০ টাকায়। মখলেসুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দরিদ্র মানুষ এই চামড়ার টাকার ভাগিদার। আজ যদি এই অর্থে অন্য কারো ভাগের সুযোগ থাকতো তবে হয়তো চামড়ার দাম প্রতিবছর কমতো না।

হাদির মোড় এলাকার মমিনুল হক এবার ঈদে খাশি কোরবানি দিয়েছেন। যার দাম পড়েছিলো প্রায় ১৯ হাজার টাকা। সারা দিন ফেলে রাখার পর তার সেই খাশির চামড়ার দাম হাকা হয়েছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা। দাম না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি সেই চামড়া একটি মাদ্রাসাকে দান করেছেন।

ঈদের দিন রাজশাহীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে আকার ভেদে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে গড়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। হাতে গোনা কয়েকটি গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর খাশির চামড়াতো কেউ নিতেই চায় না। যাওবা বিক্রি হয়েছে দাম হাকা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ টাকা।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নিজেদের স্বল্প পূজি নিয়ে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে ভিড় করে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়। এবার তাদের অভিযোগ তারা কম দামে চামড়া কিনেও সুবিধা করতে পারেনি। খাশির চামড়াগুলোর ক্রেতা না পেয়ে ভ্যান যোগে তা পদ্মা নদীতে ফেলে দিতে হয়েছে। আর রাজশাহী জেলার চামড়ার পাইকারী ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এই অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা কোটি-কোটি টাকা ঢাকার ট্যানারী প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে রেখেছে। ওই সব প্রতিষ্ঠান বাঁকিতে চামড়া দিলে নেয় নয়তো নগদে তারা চামড়া কিনতে চাইছে না।

চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ী বাবু মিয়া। নগরীর দরিখরবোনা গোরস্থানের পূর্বে অবস্থিত চামড়া পট্টিতে দীর্ঘ দিন থেকে ব্যবসা করেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারিতে লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া দিয়ে আসছি। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওই সব ট্যানারিতে আমার পাওনা পড়ে আছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। যা আমি আদায় করতে পারছেন না। এমন অবস্থায় নতুন চামড়া নিয়ে গেলে ঢাকার ট্যানারীগুলো বলে মাল ফেলে যান, পরে দেখা যাবে। প্রতি বছর অল্প অল্প করে যদি ওই ট্যানারির মালিকগুলো আমার টাকা শোধ দিতো তাও নতুন করে বাঁকিতে মাল দিয়ে ব্যবসার কথা ভাবতাম।

রাজশাহী জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য আসাদুজ্জামান মাসুদ জানান, ২০১৪ সাল থেকে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা রাজশাহীসহ সারা দেশের চামড়া ব্যবসায়ীদের টাকা আটকে রেখেছে। রাজশাহীর ব্যবসায়ীরাই পবে শত কোটি টাকার ওপরে। এমন অবস্থায় ট্যানারি মালিকদের কাছে নতুন মাল নিয়ে গেলে তারা বাঁকিতে মাল নিতে চায়। আর ট্যানারির মালিকদের কাছে বাঁকি পড়ে থাকা টাকা আদায় না হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নতুন করে আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

তিনি আরো বলেন, কোনবানির ঈদকে সমনে রেখে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী বাজারে ভিড় করে। তারা বাজার না বুঝেই মাল কিনে। তাদের অনেকেই কাঁচা চামড়াগুরো ঠিকমতো সংরক্ষণও করতে জানে না। এতে করে তারা ঝুঁকিতে পড়ে। যেকোন ব্যবসা করার আগে ওই ব্যবসা সম্পর্কে আদ্যপ্রান্ত জানা প্রয়োজন। তা না হলে লসে পড়াটা স্বাভাবিক বলে তিনি মনে করেন।

প্রসঙ্গত, একটি গরুর চামড়া থেকে ২১ বা ২২ ফিট পরিপক্ক চামড়া পাওয়া সম্ভব। এমন মানের একটি গরুর কাঁচা চামড়া এবার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকায়। আর এবার প্রতি বর্গফুট লবণ মিশ্রিত চামড়ার দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে ৩২ টাকা।

স/রা

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।