ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবারা

জেসমিন আরা ফেরদৌস:

‘বাবা’। দুই অক্ষরের একটা ছোট্ট শব্দ। কিন্তু এর ব্যাপকতা বিশাল। সন্তানের মাথার উপর বাবার স্নেহ বটবৃক্ষের শীতল ছায়ার মতো। বাবা মানেই সন্তানের ভরসার আশ্রয়স্থল। বাবা মানেই তিনি যার হাতের আঙ্গুল ধরে সন্তানের ছোটছোট পা প্রথম হাঁটা শিখে। বাবা ত্যাগের এক বিশাল মহীমা। সন্তানের সুখের জন্য,তাদের মুখে এক চিলতে হাসি দেখার জন্য যিনি আজীবন সংগ্রাম করে যান,যিনি তার জীবনের সকল সুখ বিসর্জন দিয়ে যান তিনি আর কেউ নন তিনি বাবা।

বাবার কোন তুলনা হয়না। বাবার তুলনা বাবা নিজেই। বাবা শাসনে কঠোর,ভালোবাসায় কোমল আবার ত্যাগে অগ্রগামী। সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বাবা আজীবন সংগ্রাম করে যান। নিজে না খেয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন বাবা।

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবাকে ভালোবাসার জন্য কোন নির্দিষ্ট দিবসের প্রয়োজন না হলেও সারা বিশ্বের সন্তানরা জুন মাসের তৃতীয় রবিবার কে বেছে নিয়েছেন বাবার প্রতি বিশেষভাবে সম্মান ভালোবাসা প্রকাশের জন্য।জুন মাসের তৃতীয় রোবাবার হিসেবে আজ ২০ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বাবা দিবস।

‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে; বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না; জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা মনে হয়; বাবার মতো কেউ বলে না; আয় খুকু আয়…. ‘ আমরা যখন হেমন্তের এই গানটা শুনি তখন মনের অজান্তেই বুকের ভেতর হাহাকার করে উঠে। মন ছুটে চলে যায় সেই ছোটবেলায়। মনে পড়ে যায় ছোটবেলায় বাবার সাথে কাটানো সকল স্মৃতিগুলো।

বিভিন্ন ধর্মে বাবাকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাবার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন ‘পিতার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।’

সনাতন ধর্মে বলা হয় ‘ পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম: পিত্য হি পরমং তপ: পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রীয়ন্তে সর্বদেবতা।’ অর্থাৎ পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম, পিতাই শ্রেষ্ট তপস্যা। পিতা সন্তুষ্ট হলে দেবতারাও সন্তুষ্ট হন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়,বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে পিতৃ দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল – এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ই জুলাই আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়।আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক মহিলার মাথাতেও পিতৃ দিবসের আইডিয়া আসে। যদিও তিনি ১৯০৯ সালে, ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯শে জুন, ১৯১০ সালের থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

রাজ্য আর রাজ সিংহাসন সব বাবার না থাকলেও প্রত্যেক বাবার কাছে তার সন্তান রাজকন্যা বা রাজকুমার। যার বাবা নাই শুধু সেই বোঝে বাবাকে হারানোর বেদনা। তপ্ত রোদে মাথার উপর থেকে বটবৃক্ষের ছায়া সরে গেলে যেমন একটু ছায়ার জন্য মানুষ ছটফট করে ঠিক তেমনই বাবার স্নেহ,আদর,শাসন,ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে উঠে মন।

এই করোনাকালীন সময়ে করোনার করাল থাবা কেড়ে নিয়েছে অনেক বাবাকে। এছাড়াও অভাবে,অনটনে কাজ হারিয়ে ভালো নেয় অনেক বাবা। তাই এই বিশ্ব বাবা দিবসে প্রার্থনা ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল বাবারা।

স/রি