বিএনপির মানববন্ধনে নির্যাতিত পরিবারের হাহাকার


নিজস্ব প্রতিবেদক :
আজ রোববার ছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত কারা নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা।

এসব পরিবারের কারো বাড়ির অসুস্থ্য বা বৃদ্ধ ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে। আবার কিছু পরিবার এসেছিলেন যাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের মুক্তির আশায়। বিএনপির রাজনীতি সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে কারো বাবা, কারো ভাই, আবার কারো ছেলেকে পুলিশ আটক করেছে।

এসব পরিবারের অনেকেরই বাড়িতে পুলিশ হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের মানববন্ধনে ছেলে হারা, বাবা হারা পরিবারের কান্নায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

পলাশ একজন ভ্যান চালক। মূলত তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সারাদিন পলাশ ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। গত প্রায় ১৫ দিন আগে হঠাৎ করেই পলাশ ভ্যান চালিয়ে আসার পর অসুস্থ্য শরীর নিয়ে শুয়ে ছিলেন। কিন্তু রাতে পুলিশ তাকে এসে ধরে নিয়ে যায়। মানববন্ধনে পলাশের মা কান্না জড়িতকণ্ঠে পলাশের মুক্তি দাবি করেন।

নগরীর ষষ্টিতলা এলাকার সাদ্দাম হোসেন। সম্প্রতি পুলিশ তাকে আটক করেছে। সাদ্দাম দোকানঘরে বসে দোকানদারি করছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করে নিয়ে যায়। সাদ্দামের মা মানববন্ধনে বলেন, শুধু সাদ্দাম কেনো আমার পুরো পরিবারের লোকজনদের পুলিশ ধরে নিয়ে যাক। আমি কারো কাছে বিচার দিবো না। আমি আল্লার কাছে বিচার দিবো। আল্লাহ যেটা ভাল মনে করেন করবেন।

মেহেরচন্ডির আবু সালেহ। তাকে পুলিশ আটক করেছে। কিন্তু আবু সালেহর বিরুদ্ধে কোনো মামলা আগে ছিল না। আটক করার পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দিয়েছে। আবু সালেহর মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, দেশ কি মগের মুল্লুক। যাকে ইচ্ছে তাকে আটক করে জেলখানায় পুরতে হবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে তার ছেলে দোষি হলে শাস্তি চান, আর না হলে মুক্তি চান। নগরীর মতিহার থানা বিএনপির সিনিয়র নেতা হামিদুল রহমান।

তিনি অসুস্থ্য। তারপরও পুলিশ তাকে ছাড় দেয়নি আটক করেছে। বাড়িতে ভাংচুর চালানো হয়েছে। হামিদুর রহমানের স্ত্রী বৃষ্টি বলেন, অসুস্থ্য অবস্থায় আমার স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে। জামিন দিচ্ছে না কোর্ট। এমনকি অসুস্থ্য স্বামীকে জেলখানায় দেখতেও দিচ্ছে না। তিনি বলেন, আাটকের পর আমাদের কাছ থেকে পুলিশ মোটা অংকের টাকা দাবি করে।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে আমরা সংসার চালাতে পারছি না। তার উপর পুলিশের এমন হয়রানি। আমরা কি বাংলাদেশের ভোটার না, আমরা কি বাংলাদেশের নাগরিক না। এক রাষ্ট্র দুই আইন কেনো। তিনি স্বামীর মুক্তি দাবি করেন। নগরীর মহিষবাথান এলাকার অনার্স পরীক্ষার্থী মানিক। তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলে পুলিশ তাকে আটক করেছে। মানিক পরীক্ষা দিতে পারছেন না। পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে বারবার টাকা দাবি করছেন বলেও মানিকের মা দাবি করেন।

বিনোদপুর এলাকার আব্দুল মালেক। তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়েছিলেন তার ছোট্ট নাতনি। অন্যদের মত সেও দাদার মুক্তির দাবি করে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই ছোট শিশুটি।