বাঘায় চড়ক মেলায় মানুষের ঢল


বাঘা প্রতিনিধি :

রাজশাহীর বাঘায় চড়ক মেলা দেখতে নেমেছে হাজার হাজার মানুষের ঢল। রেবাবার ১৫ মে দিন ব্যাপি উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের আড়পাড়া ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টী আদিবাসী সম্প্রদায়ের আয়োজনে এই মেলা দেখতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষের ঢল নামে।

উপজেলা সদর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে আড়পাড়া গ্রাম। এই গ্রামে শিব পূঁজার উৎসবে চড়ক মেলার আয়োজন করা হয়। এই মেলায় আনন্দ বেদনার নানা দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রথমে খালি গায়ে মূল সন্ন্যাসীকে মাটিতে শোয়ানোর পর ৪ জনকে দুই হাত দুই পা চেপে ধরে আঙ্গুলের মতো মোটা লম্বা দুটি লোহার বড়শি মেরুদন্ডের দুই পাশে ফুটিয়ে ( বিধে ) দেন। এরপর বড়শিতে নুতুন একটি গামছা বেঁধে সন্ন্যাসীকে শুন্যে তুলে ধরে চড়ক গাছের ৩০ ফুট ওপরে ঝুলিয়ে একে একে সাত পাক ঘুরানো হয়। অন্য সঙ্গীরা মাটিতে নামিয়ে বড়শি খুলে দেয়। একবার শূন্যে তাকিয়ে চড়ক গাছ দেখে নেয়। এরপর হাতে দড়ি নিয়ে বড়শি বিদ্ধ শীরর নিয়ে চড়ক গাছে ঘুরপাক খায়।

সরজমিনে, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় নিবাস, সনজিদ মল্লিক, সঞ্জয় মল্লিক ও নবকুমার মল্লিককে এই পূজা উপলক্ষে আড়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উঁচু একটি খুঁটি পুতা হয়েছে। সেই খুঁটির সাথে লাগানো দড়িতে কালার সাথে ঝুলিয়ে ঘুরোনো হয়। ঘুরানো ব্যক্তিরা বাতাসা ছিটাতে থাকেন। এই বাতাসা মানুষকে কুড়িয়ে খেতে দেখা গেছে। এভাবে খুদ্র-নৃগোষ্টী আদিবাসী সম্প্রদায় এই ভাবেই পালন করেন শিব পূঁজার অংশ হিসাবে চড়ক উৎসব।

চড়কে পাক খাওয়া সনজিদ মল্লিক, সঞ্জয় মল্লিক ও নবকুমার মল্লিককে চড়কে ঘোরা এবং শরীরের বড়শি বিদ্ধাতে তাদের কোন ব্যথা লাগে কিনা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, ভগবান সংগে থাকলে ব্যাথা লাগবে কেন। চড়ক ঘোরা কোনো কষ্টের বিষয় নয়।

এ বিষয়ে সন্যাসী নিবাস মল্লিক বলেন, বড়শি বিদ্ধের যন্ত্রনা তারা সহ্য করলেও প্রিয়জনরা বেশি সে যন্ত্রনা ভোগ করেন। অনেকের মন বাসনা পূর্ণের জন্য মানত করে। মানত করলে কঠিন রোগ থেকে মুক্তি মেলে।

আড়পাড়া চড়ক মেলা মেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি নরহরি বলেন, শত শত বছর আগে থেকে আড়পাড়া গ্রামে চড়ক মেলা হয়ে আসছে। বাপ দাদারা এই মেলা করেছেন। আমরাও করছি।

এস/আই