বাইডেনের স্বীকারোক্তি: গাজায় ‘অনেক বেশি’ নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক :

সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন বাইডেন।

সেখানেই এ স্বীকারোক্তি দেন।মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূল করতে টানা চার মাসের বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। দেশটির এমন নির্বিচার হামলায় ২৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি স্বীকার করেছেন, ইসরায়েল যেসব হামলা চালাচ্ছে তাতে ‘অনেক বেশি’ নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তিনি বলেছেন, এ সংঘাতে নিহত ২৭ হাজার ফিলিস্তিনির মধ্যে হাজার হাজার শিশু রয়েছে। তাদের সংখ্যাই বেশি। অনেক নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন নিহতের এ তালিকায়।

গাজার মানুষ নিজেদের মৌলিক অধিকারটুকুও পাচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গাজায় হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি নিরপরাধ জীবন এক একটি ট্র্যাজেডি।
লাখ লাখ মানুষ খাদ্য, পানীয় বা অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারছে না। এটি হৃদয়বিদারক যে, অনেক পরিবার কেবল তাদের বহু আত্মীয়-স্বজনকে হারিয়েছে।

ইসরায়েলে নিহতদের জীবনকেও ট্র্যাজেডি বলে উল্লেখ করেন বাইডেন। হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত নিরপরাধ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাইডেন আরও বলেন, তার দেশ হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে কাজ করছে। এ চুক্তি আগামী ছয় সপ্তাহ সময়ের জন্য গাজায় ‘টেকসই ও সবার জন্য ভালো সময়’ নিয়ে আসবে বলেও তিনি মনে করেন। এ চুক্তি পরবর্তীতে আরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী করা হতে পারে বলেও তিনি জানান।

রাফাহ শহরের অবস্থা নিয়ে বাইডেন বলেন, সেখানে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি লোকের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বাসযোগ্য কোনো পরিকল্পনা ছাড়া সেখানে বড় সামরিক অভিযান চালানো উচিত নয়। সহিংসতা থেকে বাঁচতে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া বাস্তুচ্যুতদের ‘রক্ষা করা দরকার’ বলেও উল্লেখ করেন বাইডেন।

একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই আমরা আমাদের অবস্থানে স্পষ্ট। আমরা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের যেকোনো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বিরোধিতা করি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব মন্তব্য ফিলিস্তিনের রাফাহ শহরে ইসরায়েলের আসন্ন সামরিক অভিযানের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।