প্রাথমিকের শিক্ষিকা ছাত্রলীগ নেত্রী, ৮ মাসে উপস্থিত ৪৭ দিন

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক :
তবে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করায় নিজ কর্মস্থলে একেবারেই অনুপস্থিত থাকেন।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কোনো চাকরিজীবী সংগঠনটির পদে বহাল থাকতে পারবেন না। এমন স্পষ্ট নির্দেশনার পরও চাকরির পাশাপাশি সংগঠনের পদে বহাল তবিয়তে আছেন ছাত্রলীগ নেত্রী জেবুন নাহার শিলা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার পশ্চিম কালিদাস পানাউল্লা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ছাত্রলীগ নেত্রী শিলা। গত আট মাসে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেছেন মাত্র ৪৭  দিন। রাজনীতিতে সব সময় সক্রিয় রয়েছেন তিনি।

ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকছেন ছাত্রলীগ নেত্রী শিলা। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্কুলে যোগদানের পর নিয়মিত ক্লাসে যান না তিনি। অধিকাংশ সময়ই ইডেন মহিলা কলেজের হলে অবস্থান করেন। তাছাড়া ছাত্রলীগের কলেজ ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাকে দেখা যায়।

সর্বশেষ গত ৯ জুলাই তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি চিকিৎসা ছুটিতে রয়েছেন। বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি মোট তিনবার চিকিৎসা ছুটি নিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ম্যাডাম অনেক দিন আগে আমাদের ক্লাস নিয়েছেন, তবে মাঝে মাঝে তিনি আমাদের স্কুলে বেড়াতে আসেন।

তবে চিকিৎসার ছুটিতে থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নানা অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলে অবস্থিত শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশে যোগ দেন তিনি। এছাড়া গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী সমাবেশেও অংশ নেন শিলা।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ধীরেন চন্দ্র সরকার বলেন, কাগজে-কলমে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসেন না। তিনি চিকিৎসা ছুটি নিয়ে স্কুলে অনুপস্থিত। ছুটি শেষ হলে আবার নতুন করে আবেদন করেন।

তিনি বলেন, গত আড়াই মাস ধরে তিনি আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করছেন না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কমলা বলেন, তিনি না থাকায় তার ক্লাসগুলো আমরা ভাগ করে নিচ্ছি, এতে আমাদের ওপরে বাড়তি চাপ পড়ছে।

এ ‍বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী জেবুন নাহার শিলাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হাসান বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভালো বলতে পারবেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম বলেন, তিনি মেডিকেল ছুটিতে আছেন, কিন্তু যোগদানের পর থেকে মাত্র ৪৭ দিন স্কুলে উপস্থিত হয়েছেন- এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রকৌশলী ফারজানা আলম বলেন, এটা গুরুতর অনিয়ম, এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে বিষয়টি জানাননি। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত করে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।