প্রতারিত করছে চক্র, মাশুল দিতে হচ্ছে রাজশাহীর যুবককে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অনলাইনে এক প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন রাজশাহীর এক যুবক। তাদের প্রতারণার মাশুল দিতে হচ্ছে রাজশাহীর তালাইমারী এলকার আজম আলী নামের ওই যুবককে। বৃহস্পতিবার রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন লিখিত অভিযোগে বরেন, গত এক মাসে অনলাইনে বিভিন্ন প্লাট ফরমে আমার কিছু ছবি এবং আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি ব্যবহার করে সারাদেশ ব্যাপি বিভিন্ন মানুষের কাছে থেকে কয়েক লক্ষ টাকা, বিকাশ নগদের মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানেও প্রতারণা চলমান রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সারাদেশের সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে সাংবাদিক সম্মেলন।

আজম আলী বলেন, বর্তমানে আমি অনলাইনে Fiverr.com প্লাট ফরমে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপরে কাজ শিখতেছি। গত ১০/০৮/২০২২
তারিখ একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সাথে অনলাইনের International Payment center BD ফেসবুক পেজ যার মোবাইল নং ০১৩০৩৬০৬৯৮৭ এবং ইমেইল [email protected] এ যোগাযোগ হয়। অনলাইনে আমার কাজের জন্য অল্প কিছু ডলার কেনার ব্যাপারে তাহার সাথে চ্যাট এবং ঐ পেজের নাম্বারে কথা হয়। তিনি আমার কাছ থেকে আমার কিছু ব্যক্তিগত ছবি, আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি, আমার পিতার
জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্যচায়। পরবর্তীতে হোয়াটস এ্যাপে এর মাধ্যমে যাহার মোবাইল নম্বর ০১৯৬৪১৬৮২৫৭ এ আমার সকল তথ্য ও ছবি প্রেরণ করি। কিন্তু তিনি কৌশলে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে আমার সকল তথ্যসংগ্রহ করে। আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তারপর আমি বুঝতে পারি আমি প্রতারিত হয়েছি। কয়েকদিন পর এটাও বুঝতে পারি এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। যারা আমার নাম এবং ছবি ব্যবহার করে আরেকটি হোয়াটসএ্যাপ নম্বর ০১৯৬৫৩৮৫৭৯৪ খুলে এবং তাদের প্রতারণার কাজে আমার সকল তথ্য ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে সেগুলো প্রেরণ করে প্রতারনা করছে।

তিনি আরও বলেন, আমি তারপর জানতে পারি একজন ভদ্রমহিলার কাছে এই চক্র বিকাশের মাধ্যমে ১লক্ষ ৭০হাজার টাকা হাতিয়ে
নিয়েছে এবং ভুক্তভুগীর কাছে থেকে নম্বরগুলো সংগ্রহ করি, ০১৯৬৪১৬৮৮৯৩, ০১৯৬৫০৯৮৪৯,
০১৯৬৪১৬৮৪৯৩, ০১৯৩৯১৫১০২৬৩০, ০১৯৬৫৪০৯৮৪৯ যার সবগুলোই বিকাশ এর পারসোনাল একাউন্ট। ঘটনাটি জানার পরেই গত ১১/০৯/২০২২ ইং তারিখে বোয়ালিয়া মডেল থানা, আর.এম.পি রাজশাহীতে সকল তথ্য উপাত্ত ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে সাধারন ডায়রী দায়ের করি। জিডি নং-৫৬৫ তার পরের দিন, সাইবার ক্রাইন ইউনিট রাজশাহী, বিষয়টি অবহিত করি এবং র‍্যাব-৫ রাজশাহীকে লিখিত অভিযোগ দেয়।

আজম বলেন, বর্তমানে আমি অসহায় জীবন যাপন করছি। কেননা সারাদেশ থেকে ভুক্তভুগী মানুষগণ আমার সাথে প্রতারিত হবার পর স্বশরীরে যোগাযোগ করছে এখন পর্যন্ত, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, নারায়ানগঞ্জ এবং ঢাকা ৪জনের কাছে একাধিক বিকাশ ও নগদের পারসনাল নাম্বারের মাধ্যমে ৬লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে এই প্রতারক চক্র থেমে নেয় তারা প্রতিদিন নতুন নতুন সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ডলার কেনা এবং বিক্রির ফাঁদ পেতে আমার ছবি এবং আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি মানুষের কাছে প্রেরণ করে বোকা বানিয়ে প্রতারনার শিকার করছে। বর্তমানে আমার জীবন চরম হুমকির মুখে, প্রিয় সাংবাদিক ভাইগণ উক্ত
সংবাদটি প্রচারের জন্য আপনাদের বিশেষ সহযোগিতা আশা করছি। এবং প্রশাসন যাতে এই ভয়ংকর চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশের সর্বসাধারণকে জানাতে চায় আমার ছবি এবং আমার ও আমার বাবার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি অনলাইনে কেউ প্রেরণ করে সেটির উপর বিশ্বাস করে কেউ কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন এর সাথে জড়িত হবেন না অন্যথায় প্রতারিত হবে প্রয়োজনে
আমার সাথে স্বশরীরে আমার ঠিকানায় যোগাযোগ করুন। দ্রুত উক্ত সমস্যা নিরসনে, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স/আর