পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানকে হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর নির্বাচনী এলাকার একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহরিয়ার আলম রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য এবং এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
বুধবার বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউপির চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। মেরাজুল রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রাহেনুল হকের পক্ষে তিনি নির্বাচনে কাজ করছেন।
মেরাজুল ইসলাম নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাহেনুল হকের একজন কর্মী উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগে বলেছেন, গত ২ ডিসেম্বর চারঘাটে আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহরিয়ার আলম জনসম্মুখে তাকে ‘কুলাঙ্গার’ বলে অপবাদ দেন। পাশাপাশি তিনি ১৭ তারিখের পর তাকে দেখে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। উস্কানিমূলক এই বক্তব্য তিনি প্রচার করেছেন। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শাহরিয়ার আলমের এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
জানতে চাইলে মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একজন প্রতিমন্ত্রী যখন এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেন, তখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় থাকব- এটাই স্বাভাবিক। তারপরেও আমরা দল করি। নিজেদের মতো করে আমাদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা থেমে যাইনি।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমকে ফোন করা হয়। তিনি ধরেননি। তবে মেরাজুল ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর যে বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন তার ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে। এতে এতে প্রতিমন্ত্রীকে বলতে দেখা যাচ্ছে, ‘১৯৯৬ থেকে ২০০১, আমাদের অনেকের চরিত্র হনন করা হয়েছে। নেতারা বিভ্রান্ত করেছেন বলেই কর্মীদের চরিত্র হনন হয়েছে। কারণ, কর্মীরা তো সবকিছু বোঝেন না, জানেন না, জ্ঞান নেই।’
তিনি বলেন, ‘কর্মীরা ২০২৩ সালে এসেও অনেক কিছু জানেন না বলে ওই মেরাজের মতো একটা কুলাঙ্গার একটা অপব্যাখা দিয়ে সুস্থ শরীরে চলে যেতে পারে। আমি বেশি কথা বলতে চাই না। আমি কি বললাম? ১৭ তারিখ পর্যন্ত কন্ট্রোল। ১৭ তারিখ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ। ১৭ এর পরে যাত্রা হবে নিয়ন্ত্রণহীন।’ এই বক্তব্যকেই হুমকি হিসেবে দেখছেন মেরাজুল।
জানতে চাইলে রাজশাহীর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘কোথাও আচরণবিধি লঙ্ঘন হোক-এটা আমরা চাইব না। অভিযোগ আমি দেখব। বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।’