‘পরজীবি’ জাতীয় পার্টির প্রয়োজন আছে, ‘গৃহপালিতের’ নয়: জিএম কাদের 

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক :
সরকার আমাদেরকে দুর্বল করার জন্য সব সময় আমাদের পেছনে একটি জোট বানিয়ে রাখবে।

আমরা যখনই জনগণের জন্য রাজনীতি করতে চাই তখনই সরকার আমাদের দলকে ভেঙে দেবার চেষ্ঠা করে। আর এর থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের যারা জাতীয় পার্টি করে তাদেরকে জাতীয় পার্টিই করতে হবে। আর যারা জাতীয় পার্টির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অন্য কোন দল করতে চায়, তাদেরকে জাতীয় পার্টি থেকে বের করে দিতে হবে। যদি এসব করা যায় তাহলে এই দল টিকবে। এসব করতে না পারলে দল টিকবে না।শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে জাপা কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

’৯০ এর পর থেকে জাতীয় পার্টি দুর্বল হয়েছে জানিয়ে জিএম কাদের বলেন, ক্ষমতার বাইরে থাকলে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল গুলো টিকতে পারে না। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা সব সময় বিভিন্ন ভাবে বঞ্চনার মাধ্যমে আমাদেরকে রাজনীতি করতে দেয়নি। ফলে যারা দলে ছিলেন তারা আস্তে আস্তে দল থেকে চলে গেছে। ক্ষমতায় থাকলে অনেকে দল করতে আসেন নিজের স্বার্থের জন্য। তারা দল এবং জাতির স্বার্থের বিবেচনা করে না। এমন ধরনের রাজনৈতিক কর্মীরা আমাদের দল থেকে চলে গেছে। এর ফলে আমাদের রাজনৈতিক গতি কিছুটা কমে গেছে। পরবর্তীকালে আমরা যখন মহাজোট করেছি তখন অনেকেই বলেছেন আমরা পরজীবি হয়ে গেছি।

২০১৪ সালের পর থেকে জাতীয় পার্টি বার্গেনিং পাওয়ার হারিয়ে ফেলেছে এমন মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, আমরা এখন আছি গৃহপালিত রাজনৈতিক দল হিসেবে; এটাই বাস্তবতা। কারণ হচ্ছে, সরকারি দল থেকে বিভিন্ন এজেন্ট আমাদের ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এরা কিন্তু ঠিকই আমাদের দল করে, বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়, কিন্তু বার্গিনিং এর সময় সরকারের পক্ষে চলে যায়। ফলে আমরা যখনই কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাই, তখনই তারা দল ভেঙে আরেকটা রাজনৈতিক দল করার চেষ্টা করে। আর এসব কিছু সরকার প্রতিনিয়ত করে এসেছে। যাতে আমরা স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে না পারি এবং সরকারের গৃহপালিত দল হিসেবে থাকি।

এখন জাতীয় পার্টি বন্দী হয়ে আছে, এমন মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, আগে আমরা পরজীবি হলেও আমাদের একটা চয়েজ ছিল। আমরা এখানে যেতে পারি বা চাইলে অন্য খানেও যেতে পারি। আর এখন আমরা বন্দী হয়ে গেছি। একজন ছাড়া অন্য কারো কাছে যেতে পারবো না। কারণ আমাদের আরেকজন লোক সরকারের পাশে বসে থাকেন। তিনি যখন ডাক দিবেন সরকার তাকে মদত দেবেন। মিডিয়া তাকে বিভিন্নভাবে কাভারেজ দিবেন। আর আমাদের দল ভেঙে যাচ্ছে, ভেঙে যাচ্ছে বলে ভেঙে দেওয়া হবে। এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের লাঙ্গল প্রতিক নিয়ে যাওয়া হবে; এই ধরনের ধামকি দেওয়া হবে। এই ধরনের সমস্যায় জাতীয় পার্টি সবসময় ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। আর এইসবের কারণ হচ্ছে আমাদের দুর্বলতা।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর, জাতীয় পার্টির নারী সংসদ সদস্য নাজমা আক্তার, জামালপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ, জাপা ঢাকা মহানগর উত্তর আহবায়ক তৈয়বুর রহমান, জাতীয় পার্টির কো- চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম ও জিএম কাদেরের স্ত্রী শেরীফা কাদের প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের কুচবিহারে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জিএম কাদের এর জন্ম। উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত আইনবিদ মরহুম মকবুল হোসেন এবং প্রয়াত মজিদা খাতুনের সন্তান তিনি। গোলাম মোহাম্মদ কাদের হচ্ছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছোট ভাই। তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি ও ১৯৬৫ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে বর্তমান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (বুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (মেকানিক্যাল) ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি নারায়নগঞ্জ ডকইয়ার্ডে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ টোবাকো, ইরাকের কৃষি মন্ত্রনালয় এবং যমুনা তেল কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। সবশেষ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে পরিকল্পনা ও অপারেশন্স পরিচালক হিসেবে সাফল্যময় কর্মজীবনের ইতি টেনে রাজনীতিতে সক্রীয় হন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।