পত্নীতলায় ক্লিনিকে তরুণীর লাশ উদ্ধার, মিমাংসার জন্য পরিবারকে চাপ প্রয়োগ

  • 167
    Shares

পত্নীতলা প্রতিনিধি :

নওগাঁর পত্নীতলায় গত ১৮ নভেম্বর বুধবার সকালে উপজেলা সদর নজিপুর পৌরসভার ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তানিয়া আকতার মিম (২০) নামে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার ৪দিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করতে পারেনি।

পুলিশ অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেই যেন তাদের দায় শেষ করেছে। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনার পরও পুলিশের ধীরে চলা কৌশলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। থানা পুলিশের এহেন ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এদিকে নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যরা ন্যায় বিচার লাভের আশায় পাগল প্রায় হয়ে ঘুরছেন। মিমাংসার নামে ঘটনা ধাপাচাপা দিতে পরিবারকে বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ক্লিনিক থেকে রিসিপসনিষ্ট এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা সে নিয়ে জল্পনা-কল্পনা থাকলেও সার্বিক সিনট্রম বিবেচনা করে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন তরুণীকে শারিরীক ও দৈহিক নির্যাতন এবং হত্যা করে কৌশলে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। নিহত তরুণী ধামইরহাট উপজেলার মইশড় গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।

থানা পুলিশ ও নিহত মিমের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় ১ বছর ধরে মিম নজিপুরে ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রিসিপসনিষ্ট পদে চাকুরী করে আসছিলেন। ক্লিনিকের নীচতলার একটি ঘরে তিনি মাকসুরা নামে এক সহকর্মীর সাথে থাকতেন। তবে ঘটনার দিন তাঁর সহকর্মী ছুটিতে থাকায় মিম একাই ছিলেন। বুধবার সকালে স্থানীয়রা জানালা দিয়ে ঘরের মধ্যে ফ্যানের সাথে মিমের লাশ ঝুলতে দেখে। এ সময় তাঁর শরীর একটি ওড়না দিয়ে পেঁচানো ছিলো এবং পা দুটো মাটির সাথে লেগে ছিলো। ঘরের জানালা খোলা থাকলেও ভিতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিলো। স্থানীয়রা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। এদিকে ঘটনার পর সার্কেল এসপি, এডিশনাল এসপি, পিবিআই এবং সিআইডি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্লিনিক থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধারের ৪দিন পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবারেই থানায় মামলা দায়ের করতে চাইলেও মামলা না গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মো. নাজিম বাবু এর মালিকানাধীন ইসলামিয়া ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি কয়েক বছর আগে থেকেই নজিপুরে ব্যবসা করে আসছে। এই ক্লিনিকের কোন অনুমোদন নেই। এমনকি অনুমোদনের জন্য তাঁরা আবেদন না করেই বহাল তবিয়তে ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে। সুন্দরী নার্স নিয়োগ দিয়ে তাদের সাথে অনৈতিক আচরণ করার পর কৌশলে তাড়িয়ে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে নিহত তরুণী মিমের পিতা মিজানুর রহমান বলেন, আমার বিশ্বাস মেয়ে আতœহত্যা করতে পারেনা। আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমি থানায় মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নেয়নি। বর্তমানে ঘটনার মিমাংসা করার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমি মেয়ে হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ বি এম আবু হানিফের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজ-খবর নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ সাইফুল্লাহ বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে তরুণীকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পতœীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ সামসুল আলম শাহ্ জানান, নিহত তরুণীর পোস্ট মর্টেম সম্পন্ন হলেও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স/অ

 

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।