নিজ দলের অবস্থান হারিয়ে নৌকা পেতে মরিয়া বাদশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনের সংসদ-সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এখনো নৌকার আশা ছাড়েননি। জোট শরিক হিসাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আশায় দিন গুণছেন তিনি ও তার অনুসারীরা। যদিও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবার বাদশার পক্ষে মাঠে না নামতে অনড় অবস্থান নিয়েছে। বাদশা কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারছেন না।

যদিও ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, আসন ভাগাভাগি হয়ে গেলে তাকে শেষ পর্যন্ত রাজশাহী-২ আসনে জোটের প্রতীক নৌকা দেওয়া হবে। যখন আওয়ামী লীগ তাদের মনোনীত প্রার্থীকে সরিয়ে নেবে তখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

তবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, বাদশা ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করেননি। এমনকি ন্যূনতম যোগাযোগটাও রাখেননি। এবার দল বাদশাকে নৌকা দিলেও তারা তার পক্ষে ভোটের মাঠে নামবেন না।

জানা গেছে, ছাত্রমৈত্রীর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি বাদশা এখন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু রাজশাহীতে ছাত্রমৈত্রীর যেমন শক্তি নেই তেমনি ওয়ার্কার্স পার্টিরও উল্লেখ করার মতো সাংগঠনিক কোনো শক্তি ও নির্বাচনে জেতার মতো ভোট নেই। ফলে নৌকার ওপর ভর করেই বাদশাকে নির্বাচন করতে হয়। জোটের রাজনীতিতে বাদশা এবারও আওয়ামী লীগের (নৌকা) দিকে তাকিয়ে আছেন।

দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, নৌকা না পেলে বাদশাকে এবার শোচনীয়ভাবে হারতে হবে। নৌকা পেলেই যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাদশাকে জেতাতে মাঠে নামবেন-সেই বিষয়টিও অনিশ্চিত।

মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, রাজশাহী-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে যদি সরেও দাঁড়ান তাতেও বাদশার বিপদ কাটবে না। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, জোটের শরিক অন্য দলগুলোর নেতাকর্মীরাও বাদশার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। জোটের অন্যতম শরিক জাসদ রাজশাহী-২ আসনে নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু বলেন, ফজলে হোসেন বাদশাকে নৌকা দেওয়া হলেও দলের নেতাকর্মীদের এবার তার পক্ষে মাঠে নামানো সহজ হবে না। কারণ গত তিনটি নির্বাচনে নৌকা নিয়ে জিতেও বাদশা রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি। বরং জোটের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচিও তিনি সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত এবারও বাদশাকে যদি নৌকায় তুলে দেওয়া হয় তাতেও রাজশাহীর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তার পক্ষে ভোটের মাঠে নামবেন না। বরং দলের নেতাকর্মীরা চাইছে দল মনোনীত প্রার্থীই থাকুক।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা বলেন, এবার আমরা এই আসনে বাদশাকে আর ছাড় দিতে রাজি নই।

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু বলেন, রাজশাহীতে জোটের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো সংকট নেই। শেষ পর্যন্ত বাদশাকেই নৌকা দেওয়া হবে। শরিকদের সঙ্গে কোনো মান অভিমান থাকলে আমরা আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলব।