নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদের মালিক কে হবে

দীর্ঘদিন যদি কোনো ব্যক্তির খোঁজ না মেলে, অর্থাৎ ওই ব্যক্তি মৃত নাকি জীবিত তা না জানা যায়—এমন ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করার সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। নিখোঁজ ব্যক্তির সম্পদের কেউ উত্তরাধিকার দাবি করলে তাকে সাক্ষ্য আইনের ১০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রমাণ করতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাত বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ আছে। আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির নিখোঁজের সময়সীমা সাত বছর অতিবাহিত হলেই কেবল সাক্ষ্য আইনের ১০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী ধরে নিতে হবে তিনি মৃত। সে ক্ষেত্রে তার উত্তরাধিকারীরা সম্পদের অধিকারী হতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অন্যথায় উত্তরাধিকারীদের সম্পদ হস্তান্তরে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করার কোনো আইন নেই। এ কারণে কেউ নিখোঁজ হলে আইনি জটিলতা এড়াতে উত্তরাধিকারীদের আগে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সনদ নিতে হবে, কারণ বর্তমানে আইন অনুযায়ী কারো জন্ম বা মৃত্যুর সনদ দেওয়ার এখতিয়ার ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলের কার্যালয়ের। অন্যথায় উত্তরাধিকারীদের সম্পদ হস্তান্তরে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এটা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। আদালতের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অ্যাডভোকেট মুনসুরুল হক চৌধুরী আরো বলেন, নিজেকে উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করে আদালতে ঘোষণামূলক মামলা করতে হবে। একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে তাদের মামলায় যুক্ত করতে হবে। এরপর আদালত থেকে নিজেদের দাবির পক্ষে রায় পাওয়া গেলেই কেবল উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পদের মালিকানা দাবি করা যাবে।

সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির  বলেন, কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হলে সাধারণ নিয়ম হলো তার উত্তরাধিকারীদের থানায় জিডি করতে হবে। তবে কেউ যদি জিডি না করে, তবে উত্তরাধিকারী হিসেবে ওই ব্যক্তির সম্পদের মালিকানা দাবি করলে তাকে সাক্ষ্য আইনের ১০৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাত বছরের বেশি নিখোঁজ রয়েছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে হাইকোর্টের রায় রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) কাছ থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেটের একটি দোকান বরাদ্দ নেন মো. ইসমাইল নামের এক ব্যক্তি। ক্যালকাটা গান (বন্দুক) রিপেয়ারিং ওয়ার্কস নামের ওই দোকানে বন্দুক মেরামত করা হতো। ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে দোকানের মালিকানা দাবি করে ইফাতে আবেদন করেন খায়রুন নেসা। তিনি আবেদনে নিজেকে ইসমাইলের ভাগ্নি এবং একমাত্র উত্তরাধিকারী দাবি করেন। কিন্তু ইফা তাঁকে ওই দোকানের মালিকানা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি ১৯৮৮ সালে ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন। ওই আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেন।

এরপর তিনি ওই রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন (প্রথম আপিল ৩৬৬/৯৫)। এই মামলায় শুনানি শেষে হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালের ২০ মে রায় দেন। ওই রায় খায়রুন নেসার পক্ষে যায়। ওই রায় অনুযায়ী দোকানের মালিকানা পান তিনি। সাক্ষ্য আইনের ১০৮ নম্বর ধারা বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট রায় দেন।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।