নওগাঁয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য নির্মিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের স্বপ্নের বাড়ি


কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ :

নওগাঁর বর্ষাইল ইউনিয়নের পদ্মপুকুরে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার সত্তরটি পাঁকা বাড়ির নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বর্তমানে ওই পল্লীর নৃ-গোষ্ঠির সদস্যরা স্বপ্নের বাড়িতে বসবাসের উদ্বোধনের দিনটির জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে। এই স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণের মাধ্যমে ছিন্নমূল এই পল্লীর মানুষদের জীবনমান পাল্টে দিতেই সরকারের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি ছিমছাম পরিচ্ছন্ন আদিবাসী পল্লী।

সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দিনশেষে নিজস্ব জমি ও ঘর বিহীন নৃ-গোষ্ঠির মানুষদের কেউ কেউ কুড়ে ঘরে, কেউবা টিনের আবার কেউবা মাটির জোড়াতালি দেওয়া ঘরে বছরের পর বছর গাদাগাদি করে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছে। এমনকি সমাজে পিছিয়ে পড়া এই মানুষদের মৃতদেহ সৎকার করার জন্যও নেই কোন নিজস্ব শশ্মনঘাঠ। এমন জীবনমান পরিবর্তন করে সকল সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি আধুনিক মানের সমন্বিত পল্লী নির্মাণের লক্ষ্যেই পদ্মপুকুর আদিবাসী এলাকায় ১ একর ৩৫শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে মানসম্মত ও বাড়িগুলো দীর্ঘস্থায়ী করার পরিকল্পনা নিয়ে সঠিক তদারকির মাধ্যমে নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীন কয়েক লাখ মানুষের জন্য ২শতাংশ খাস জমির উপর সেমি পাঁকা ঘর নির্মাণ করার প্রকল্প চলমান রয়েছে। সেই প্রকল্পের ৩য় ধাপের আওতায় ৬০টি ও সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। পদ্মপুকুরে বসবাসরত উরাও ও ভুইপাল গোত্রের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির ছিন্নমূল আদিবাসী পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্মাণ করা হচ্ছে এই বাড়িগুলো। সেই সঙ্গে একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমন্বিত আদিবাসী পল্লীও তৈরি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পল্লীর বাসিন্দা দেবীচরন, ফুলকুমারীসহ অনেকেই বলেন, আর কদিন পরেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ইটের পাঁকা ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতে পারবো এমনটি ভাবতেই আনন্দ লাগছে। আমরা কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করিনি যে আমরা নিজস্ব জমিসহ ইটের পাঁকা বাড়ির মালিক হবো। বাড়ি নির্মাণের কাজ দেখে খুবই ভালো লাগছে। রডের আরসিসি দিয়ে মজবুত করে আমাদের বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আরেক বাসিন্দা সুব্রত কুমার রাজু বলেন, উপরের স্যারেরা সময় পেলেই আমাদের বাড়ি নির্মাণের কাজ দেখতে আসেন। খোঁজ খবর নেন। আমরা স্যারদের পরামর্শ অনুসারে প্রতিনিয়তই নির্মাণ কাজের খোঁজ খবর নিই। কোথাও কোন অনিয়ম হলেই তা সঙ্গে সঙ্গে স্যারদের জানাই। তাই আমাদের বাড়ি নির্মাণের কাজ খুব ভালো হচ্ছে এবং দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বর্ষাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক আমিসহ আমার মেম্বার ও স্থানীয় মানুষরা সব সময় বাড়ি নির্মাণের কাজ তদারকি করছি। প্রণিত নকশা অনুসারে ও সঠিক মানের উপকরণ দিয়েই প্রতিটি বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশেষ নজরদারীর মাধ্যমে বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অন্যান্য বাড়ির তুলনায় মজবুত আকারে এই বাড়িগুলো তৈরি হচ্ছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা ইমাম উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক বাড়িগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে বিশেষ ভাবে ও বাড়তি কিছু নকশা যুক্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে একটু নিচু জায়গার বাড়িগুলোতে আরসিসি পিলার ও অন্যান্য ঘরের উপরে চারিদিকে এবং বারান্দায় রডের আরসিসি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে । এতে করে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে এই বাড়িগুলোর সহজেই কোন ক্ষতি হবে না। আমি সব সময় বাড়ি নির্মাণের কাজ নিয়ম অনুসারে সঠিক ভাবে ভালো ও মানসম্মত উপকরন ব্যবহার করা হচ্ছে কিনাসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো কঠোর ভাবে তদারকি করছি।

জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান বলেন, আমি আশাবাদি যে ভাবে কাজ এগিয়ে চলেছে তাতে আর দুই মাসের মধ্যে সকল বাড়ির নির্মাণ কাজ শেষ করে সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। আমি দৃঢ় ভাবে বলতে পারি যে অন্যান্য বাড়ির চেয়ে এই পল্লীর বাড়িগুলো সম্পন্ন ভিন্ন ভাবে ও মজবুত আকারে নির্মাণ করা হ”েছ যেন এই পরিবারগুলোর কয়েক প্রজন্ম দু:শ্চিন্তাহীন ভাবে এই বাড়িগুলোতে বসবাস করতে পারেন। আমি আশাবাদি সরকারের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই মানুষরা সমাজের মূল ধারায় খুব সহজেই নিজেদের যুক্ত করে নিতে পারবে।

এস/আই