ধামইরহাটে বিনা-১৭ ধান চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষক


ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে চলতি আমন মওসুমে বিনা-১৭ ধান চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে কৃষক। ধানের রোগবালাই না থাকায় এবং আগাম ধান পাকায় কৃষকরা সহজে এ ধান ঘরে তুলতে পারছে। আগাম ধান কাটার ফলে ওই জমিতে রবি শস্য চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ফলে একই জমিতে বছরে তিন ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে জানা গেছে,২০১৭ সাল থেকে উপজেলা কৃষি বিভাগ দেশীয়ভাবে উদ্ভাবিত বিনা-১৭ ধান চাষে কৃষকদের বিভিন্নভাবে প্রণোদনা ও উৎসাহ প্রদান করছে। এ ধান অনেকটা জিরাশাইলের মত সরু। ভাত খেতে খুব সুশ্বাদু। উচ্চ ফলনশীল ও খরা সহিঞ্চু এ জাতের ধান বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বিশেষ উপযোগি। বিশেষ করে এ ধান চাষ করতে ২০-৩০ ভাগ সার এবং ৩০ ভাগ পানি খরচ কম হয়। এছাড়া ধানগাছ খাটো হয় এবং খুব শক্ত হওয়ার কারণে ঝড়ে ধানগাছ হেলে পড়ে না। অন্যান্য ধানের তুলনায় এ জাতের ধান গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। সবচেয়ে বড় গুন এ জাতের ধান আগাম পাকতে থাকে। মাত্র ১১০-১১৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা যায়। আশ্বিন মাসের শেষে ধান পাকতে থাকে। এ সময় পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায়। ফলে কৃষক অল্প খরচে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারে। ধান গাছের খড় গো খাদ্য হিসেবে মাঠ থেকে বিক্রি হয়। ধান কাটার পর কৃষক ওই জমিতে হালচাষ করে রবি শস্য বিশেষ করে আলু,সরিষা ও গম চাষের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়। এক কথায় একই জমিতে বছরে তিন ফসল পেতে কৃষকগণ বর্তমানে বিনা-১৭ ধান চাষে ঝুঁকে পড়ছে।

উপজেলার উমার ইউনিয়নের বিহারীনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন (মতিবুল) বলেন,এক একর জমিতে তিনি বিনা-১৭ জাতের ধান তিনি চাষ করেছেন। বর্তমানে ধান কাটার উপযোগি হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তার জমির ধান নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে। এতে দেখা যায় একর প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ মণ হারে ফলন হয়েছে। আশাকরি ১ সপ্তাহের মধ্যে ধান জমির সম্পন্ন ধান কাটতে পারব। ধান কেটে ওই জমিতে রবি শস্য হিসেবে সরিষা অথবা আলু চাষ করব। ফলে বছরে তিনি একই জমিতে তিনি ফসল চাষ করতে পারবেন। আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শনীর এ ধান চাষে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তাকে ধান বীজ,সার ও কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা.শাপলা খাতুন বলেন,ধামইরহাট উপজেলার ২০ হাজার তিনশত ২০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এ এলাকার কৃষকগণ অধিকাংশ জমিতে ভারতের স্বর্ণা-৫,রঞ্জিত এবং মামুন স্বর্ণা,ত্বরা স্বর্ণা,গুটি স্বর্ণা ধান চাষ করে। এছাড়া ব্রি ধান ১৭,৭৫,৮৭ চাষ করেছে। ব্রিধান বিনা-১৭ উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান একর প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ মণ হারে ফলন হয়। এ ধানের নমুনা কর্তন করে দেখা গেছে হেক্টর প্রতি ফলন হয়েছে পাঁচ দশমিক ১৪ মে.টন ধান এবং তিন দশমিক তিন নয় মে.টন চাল। এসব ধানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। বিনা-১৭ জাতের ধানের রোগ বালাই নেই বললেই চলে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। তাছাড়া মাত্র ১১০ দিন থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা সম্ভব। সার ও সেচে প্রায় ২০-২৫ ভাগ কম খরচ হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উঠোন বৈঠক,হাট-বাজার সভা এবং গ্রুপ ভিত্তিক কৃষক সমাবেশ,গ্রাম কৃষক বন্ধু প্রশিক্ষণ,প্রণোদনা,লিফলেট বিতরণ,কৃষি প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে কৃষকদের এ ধান চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে এলাকার কৃষকগণ এ ধানে চাষে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে।

জেএ/এফ