দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠপ্রশাসন ও পুলিশ বড় রদবদল চায় ইসি

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:

মাঠপ্রশাসন ও পুলিশে বড় ধরনের রদবদল চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরির লক্ষ্যেই এ রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে সারা দেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ওসিদের বদলি করতে জননিরাপত্তা বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছে কমিশন। ওই চিঠিতে প্রথম পর্যায়ে একই উপজেলা ও থানায় থাকা ইউএনও ও ওসিদের বদলির প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ওই প্রস্তাব অনুমোদন করলে বদলির আদেশ জারি করবে স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কয়েকজন ডিসি ও এসপিকে প্রত্যাহার করার জন্য বলেছে ইসি। তাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী পক্ষপাত ও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার এসব চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা গেছে-বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্যদের বেশিরভাগই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। মাঠপ্রশাসন ও পুলিশের অনেক কর্মকর্তা একই জায়গায় দীর্ঘদিন থাকার কারণে তাদের অনেকের সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িয়েছেন। এ অবস্থায় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এ পদেক্ষপ নিয়েছে। ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আর প্রচার শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম যুগান্তরকে বলেন, আমরা কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। দু-এক দিনের মধ্যে বিষয়টি আপনারা জানতে পারবেন। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

ইসি সূত্র জানায়, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান জেলায় জেলায় গিয়ে মাঠপ্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকে ইউএনও এবং থানার ওসিদেরও ডাকা হয়। চার কমিশনারের জেলায় জেলায় সফরে গিয়ে মাঠপ্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষপাতের অভিযোগ পান। বিষয়টি নিয়ে কমিশনে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেন তারা। সেখানে বড় ধরনের রদবদলের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।

সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ-আল মামুন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন। একইদিন বিকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীও কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে বদলির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একইদিন কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে চিঠিও পাঠায় ইসি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের নিমিত্তে সব থানার ওসিদের পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যেসব ওসি বর্তমান কর্মস্থলে ৬ মাসের অধিক সময় রয়েছেন তাদের অন্য জেলা বা থানায় বদলির প্রস্তাব ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে। অপরদিকে ইউএনওদের বদলির বিষয়ে প্রায় একই ধরনের নির্দেশনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ব্যাপক বদলিতে প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যেন মাঠপর্যায়ে কাজের স্পৃহা ও মনোবলে চিড় না ধরে এ বিষয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসি। এ কারণেই বদলির বিষয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে কমিশন। স্ব-স্ব মন্ত্রণালয় থেকে বদলি প্রস্তাব দিতে বলেছে ইসি। যদিও নির্বাচনে ৪৯৫ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসাবে রয়েছেন। তাদের মধ্যে যাদের বদলি করা হবে, সেখানে নতুন করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে ইসি।

ইসির কর্মকর্তা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৪৪(ঙ) ধারায় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর সরকারি কর্মকর্তাদের বদলির এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের কাছে ন্যস্ত হয়। ওই ধারা অনুযায়ী, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের কোনো বিভাগ বা কোনো সংস্থার যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিতে পারে ইসি। ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা বস্তবায়ন করা ওই কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদে কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব হিসাবে উলে­খ করা হয়েছে।

ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, চার কমিশনার মাঠপর্যায়ে সফরকালে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ পেয়েছেন। ওই তালিকায় ডিসি ও এসপিও রয়েছেন। তাদের নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। তবে তাদের নামের তালিকা পাওয়া যায়নি। এছাড়া নির্বাচনে যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বদলি এবং শাস্তির মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। যুগান্তর