দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নিজ বাড়িতে নাজমুলের ‘বিদ্যাবাতি পাঠাগার’

রেদওয়ানুল হক:
বাড়িতে থাকা কিছু বই নাড়াচাড়া করতে করতেই মনের মধ্যে পাঠাগার গড়ার স্বপ্ন রোপিত হয় নাজমুল মৃধার। আর্থিক অনটনসহ নানা বাঁধা-বিপত্তির মধ্যেও তিনি পাঠাগার গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন একটি পাঠাগার। যার নাম ‘বিদ্যাবাতি পাঠাগার।’

নাজমুল মৃধা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। বাড়ি নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলাধীন ভারতের সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত বাঘবেড় গ্রামে। বাড়ির আঙিনায় পাঠাগারের জন্য টিনের দোচালা একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। একটি বুকসেল্ফ আর বাড়ির কয়েকটি চেয়ার-টেবিল দিয়েই আপাতত সাজিয়েছেন পাঠাগারটি। রেখেছেন বিনামূল্যে বই বাড়িতে এনে পড়ার সুবিধাও। গত ২২শে ডিসেম্বর পাঠাগারটির উদ্বোধন করা হয়। উপন্যাস, গল্প, কবিতাসহ শিশুতোষ মিলিয়ে বর্তমানে দু’শতাধিক বই রয়েছে পাঠাগারটিতে।

নাজমুল মৃধার ইচ্ছা পাঠাগারে তিনি একাডেমিক বইপত্রও রাখবেন। যাতে করে তাঁর গ্রামে যেসব ছেলে-মেয়ে অর্থের অভাবে ক্লাসের বই কিনতে পারে না তারা যেন এই পাঠাগারের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারে। তিনি প্রত্যাশা করেন, একদিন এই পাঠাগার গ্রামে বিদ্যার বাতি ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে।

পাঠাগার শুরুর বিষয়ে নাজমুল মৃধা সিল্কসিটি নিউজকে বলছিলেন, বছর চারেক আগের কথা। ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি তাঁর আলাদা ঝোঁক ছিল। তিনি বই পড়তেন আর ভাবতেন নিজেই একটি পাঠাগার করবেন। সেই থেকে কার সঙ্গে পরামর্শ বা সহযোগিতা করবেন, টাকা জোগাড় কীভাবে হবে এসব চিন্তা তাঁর মনে ঘুরপাক খেত। এছাড়াও আর্থিক অস্বচ্ছলতা ছিল নাজমুল মৃধার সব থেকে বড় বাধা। তবুও থেমে যাননি তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মাসের খরচসহ অন্যান্য খরচ থেকে টাকা সঞ্চয় শুরু করেন নাজমুল মৃধা। স্নাতক (সম্মান) শ্রেণি পাশ হতে হতেই চার বছরে তিনি পঞ্চাশ হাজার টাকা জমিয়ে ফেললেন। আর এই টাকা দিয়েই তাঁর স্বপ্নের ইট গাঁথেন তিনি। অনেকটাই আবেগী কণ্ঠে নাজমুল মৃধা বলছিলেন, ‘এই পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিমাণে যৎসামান্য। তবে তা গ্রামে আলো ছড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।’

নাজমুল মৃধা প্রতি পহেলা বৈশাখে এবং হাতে টাকা আসলেই সেখান থেকে পাঠাগারের জন্য যতগুলো সম্ভব বই কিনতেন। বন্ধু ও সুধীজনেরাও তার পাঠাগারের জন্য বই উপহার দিতেন। পাঠাগারটি নির্মাণের সময় অনেকের সমালোচনা কানে আসলেও মা-বাবা, তাঁর স্ত্রী, গ্রামের গুণীজন, সহপাঠী আর শিক্ষকদের থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা তাঁকে আরো দৃঢ় প্রত্যয়ী করেছে বলে জানান নাজমুল মৃধা।

সুধীজনদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে পাঠাগারটিকে হরেক রকমের বই দিয়ে সমৃদ্ধ করতে চান তরুণ এই স্বপ্নবাজ। তিনি বলেন, ‘আমি চাই গ্রামের শিশু-কিশোর, তরুণসহ সবাই বই পড়ে জীবন গড়–ক। তাদের মনে ছোট থেকেই বিদ্যানুরাগী হওয়ার বীজ অঙ্কুরিত হোক। তবেই আমার প্রচেষ্টা সফল হবে।’

গ্রামটির শহীদ স্মৃতি তেরপোতা বাঘবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নাজমুলের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ আমাদের গ্রামের জন্য আশীর্বাদ হবে। এর মাধ্যমে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা উপকৃত হবে।’

 

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।