ডায়াবেটিসের রোগীদের খাদ্যপণ্যে বড় ব্যবসা

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

 

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা, কার্যকরভাবে যার চিকিৎসা করাতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এক কোটির বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। প্রতিনিয়ত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশে অন্য দেশের তুলনায় কম বয়সীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেকটাই উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিকভাবে আরো সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়া থেকে রেহাই পাওয়া যায় বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দিন দিন ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশ-বিদেশে ডায়াবেটিক খাবারের বাজারও তৈরি হয়েছে। দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যারা শুধু ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে, যারা বিভিন্ন দেশ থেকে ডায়াবেটিক পণ্য আমদানি করে বাজারজাত করছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সুপারশপে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য রয়েছে। পূর্ণভা লো জিআই রাইসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ডায়াবেটিক চাল, সুগার ফ্রি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট, এনসিউর ডায়াবেটিক দুধ, চিনি (ক্যান্ডেরেল, ইকুয়াল, জিরো সেল, দিয়া সুগার), জেলি সুগার ফ্রি, জুসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার আগের তুলনায় ডায়াবেটিক বেশ কয়েকটি পণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চাহিদা বেড়েছে।

বাজার সারাবেলা সুপারশপের ইনচার্জ আনিছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডায়াবেটিক পণ্যগুলোর প্রচুর চাহিদা রয়েছে আমাদের এখানে। করোনার প্রভাবে সে চাহিদা আরো বেড়েছে। ডায়াবেটিক চাল, ডায়াবেটিক দুধ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিস্কুট ও চিনি গোসহ বিভিন্ন ডায়াবেটিক পণ্য বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বেশি থাকায় ডায়াবেটিক কোনো পণ্য আমাদের স্টকে থাকে না।’

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জিনিয়াস সুপারশপের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইয়াসিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ডায়াবেটিক পণ্য ডায়াবেটিসের সব রোগীই কেনেন না। যাঁরা সচেতন তাঁরাই কিনে থাকেন। তবে করোনায় ডায়াবেটিক পণ্য বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়েছে। আমাদের এখানে দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের বিভিন্ন ডায়াবেটিক পণ্য পাওয়া যায়।’

রেনেটা লিমিটেডের একটি সম্পূরক প্রতিষ্ঠান পূর্ণভা। পূর্ণভা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের জন্য ন্যাচারালভাবে তৈরি করা তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজারে নিয়ে এসেছে। সেগুলো হলো লো জিআই রাইস, চিনি গো প্রিমিয়াম ও ডায়াবেটাসল। ডায়াবেটাসল হলো পুষ্টিকর দুধভিত্তিক পানীয়, যা মূলত ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তৈরি করা। পূর্ণভার প্রডাক্ট ম্যানেজার আদিব আল ইব্রাহিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজারে এখন ডায়াবেটিক পণ্যের ভালোই চাহিদা রয়েছে। করোনার কারণে মানুষজন আরো সচেতন হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের ডায়াবেটিক পণ্যের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে চিনি গোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। চাহিদা থাকায় আরো কিছু পণ্য নতুনভাবে বাজারে আনা হচ্ছে। চিনি গো ট্যাবেলট আকারে ও লিকুইড আকারে বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। আমাদের প্রডাক্টগুলো বাজারে খুব ভালো চলছে। আমাদের লো জিআই রাইস যারা খায়, তারা নিয়মিতই খাচ্ছে। সে কারণে এটিরও প্রচুর চাহিদা বাজারে। লো জিআই রাইস বেশি খাচ্ছেন ডাক্তাররা। আমাদের পণ্যগুলো আমাদের পূর্ণভা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও বিভিন্ন সুপারশপে পাওয়া যাচ্ছে।’

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার ‘পিউর অর্গানিক ডায়াবেটিস মিক্স’ নামের একটি প্রডাক্ট বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, যেটি ১৮টিরও বেশি প্রাকৃতিক উপাদানে ও পরিমাণমতো মিশ্রণ করে তৈরি করা। এটি বাজারে নিয়ে এসেছে কৃষিভিত্তিক খাদ্য ও খাদ্যশিল্পজাত প্রতিষ্ঠান পাল অ্যান্ড পাল অ্যাগ্রো প্রডাক্ট।

পাল অ্যান্ড পাল অ্যাগ্রো প্রডাক্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, “ওষুধগুলোতে অনেক সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। আমাদের পণ্য ‘পিউর অর্গানিক ডায়াবেটিস মিক্স’ কোনো ওষুধ নয়, এটি ফুড সাপ্লিমেন্ট। নিরাপদ খাদ্য বা সেইফ ফুড হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটা শতভাগ ন্যাচারাল, তাই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। আমাদের এই পণ্য বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) কর্তৃক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষিত। এটি নিয়মিত মাত্র এক থেকে তিন মাস সেবন করলে অন্য কোনো ওষুধ ছাড়াই খুব সহজে ও দ্রুত সুগার নিয়ন্ত্রিত হয়। বাজারে এর ভালোই সাড়া পড়েছে। মানুষজনও চাচ্ছে যেকোনো রকম ওষুধ ছাড়া ন্যাচারালি কিভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সামনে আমাদের লক্ষ্য আছে এটা দিয়ে লিকুইডভাবে নতুন কিছু করা।’

 

সূত্র: কালেরকন্ঠ

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, [email protected] ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।