টয়লেট ব্যবহার করছে গরু, করতে পারে ‘ফ্লাশ’ ও! (ভিডিও)

মাঠঘাট, রাস্তায় কিংবা বাড়ির উঠোন বা যে কোনো স্থানে গবর ফেলছে গরু, এটাই পরিচিত দৃশ্য। তবে ওদেরও অভ্যেস বদলাতে পারে। টয়লেটে গিয়ে মলমূত্র ত্যাগ করতে পারে গরুও। গল্পের গরু গাছে ওঠে, আর বাস্তবের গরু চার দেওয়ালে ঘেরা শৌচালয় গিয়ে শৌচকর্মের পর ‘ফ্লাশ’ করে জায়গা পরিষ্কার করে দিয়ে আসছে! শুনে অবাক হচ্ছেন?  বিশ্ববিখ্যাত জার্নাল ‘কারেন্ট বায়োলজি’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এমনটাই জানা গেছে।

গরুকে যতটা বোকা মনেকরা হয় তা কিন্তু নয়। তারা বেশ চালাক-চতুর। কোনো কিছু শেখালে চটপট শিখে নিতে পারে। মানবশিশুর থেকেও বেশি তাড়াতাড়ি অনেক কিছু আয়ত্ত করতে পারে তারা। প্রয়োজন হলে দরজা খুলে টয়লেটেও যেতে পারে এই গবাদি প্রাণী। ক্ষেতখামারে যেখানে সেখানে মূত্র ও মলত্যাগ করে না। কাজ হয়ে গেলে বাথরুম অপরিষ্কার হয় সেটা ভালোই বোঝে। তাই মল-মূত্র ত্যাগের পর বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য ফ্লাশ করতেও পারে তারা। এরপর কাজ শেষে স্বাভাবিকভাবে দরজা খুলে বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসে।

সম্প্রতি এক গবেষণা থেকেই এমন তথ্য জানা গেছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা পত্রিকা কারেন্ট বায়োলজিতে। যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছে, জার্মানির ‘রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ফার্ম অ্যানিমেল বায়োলজি (এফবিএন)’ ও নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়।

চাষবাসের এলাকা বাড়ায় ক্ষেতখামারে গবাদি পশুদের ত্যাগ করা বর্জ্য পদার্থ থেকে উত্তরোত্তর বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। তৈরি হচ্ছে অত্যন্ত বিষাক্ত অ্যামোনিয়ার মতো গ্রিনহাউস গ্যাস। আর এর ফলে বাড়ছে উষ্ণায়নের বিপদ, যা দ্রুত হারে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গত আগস্টে জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত রিপোর্টও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ক্ষেতখামারে গবাদি পশুর বর্জ্য পদার্থ থেকে কী ভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যায় তার উপায় বাতলাতে বলেছে বিজ্ঞানীদের।

অ্যামোনিয়া গ্যাস যে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হয়, তা কিন্তু নয়। কিন্তু গবাদি পশুর মাটিতে মেশা মল-মূত্র থেকে তৈরি হওয়া অ্যামোনিয়াকে ব্যাক্টেরিয়াসহ কয়েকটি অণুজীব বদলে দেয় নাইট্রাস অক্সাইডে। যা কার্বন ডাই-অক্সাইড ও মিথেনের পর তৃতীয় বিপজ্জনক গ্রিনহাউস গ্যাস। চাষবাস থেকেই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের নির্গমন হয়। যার অর্ধেকের জন্যই দায়ী গবাদি পশুদের মল-মূত্র।

গবেষকরা বহুপ্রচলিত তিনটি ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন। প্রথমত তারা দেখিয়েছেন, মল-মূত্র ত্যাগ করার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেয় গবাদি পশুরা। ব্যাপারটা এমন নয় যে অপেক্ষা করতে না পেরে তারা হঠাৎই মল-মূত্র ত্যাগ করে ফেলে।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ