হামলার নেতৃত্ব দেয় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা

চারঘাটে ডিবি পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৪, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর চারঘাটে ডিবি সদস্যদের ওপর মাদক কারবারিদের হামলার ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ নভেম্বর) দিনে ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ওই দিন বেলা তিনটার দিকে উপজেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউসুফপুর ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আলী।

তিনি হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় পালিয়েছিলেন। হামলায় ডিবির দুই কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি-১) আব্দুল হাই বলেন, এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল আলীসহ চারজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। ডিবি ঘটনাস্থল থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল, ৪০০ গ্রাম হেরোইন, একটি ওয়ান শুটারগান ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। এ ছাড়াও তাঁদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত দুটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

ডিবির আহত দুই কনস্টেবলের নাম ইউসুফ আলী ও বিশ্বজিৎ কুমার। তাঁরা রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) কর্মরত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে ইউসুফপুর কান্দিপাড়া গ্রামের মখলেসুুর রহমান আসকানের বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবির তিন সদস্যের একটি দল। অন্য একটি দল ইউসুফপুর বাজারে অবস্থান করছিল। অভিযানে ফেনসিডিলসহ রুবেল আলী ও রায়হানকে আটক করে ডিবি। আটকের পর হাতকড়া পরাতে গেলে রুবেলের বাবা মখলেসুর রহমান আসকান ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুরু করেন।

তখন রুবেলের আরও দুই ভাই পাভেল ও সাব্বির ১০-১২ জনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় রুবেলের নেতৃত্বে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা করেন তাঁরা। এ সময় হাঁসুয়ার আঘাতে ইউসুফ ও বিশ্বজিৎ নামের দুই কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। হামলার নেতৃত্বদানকারী রুবেল আলী ইউসুফপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি পুলিশের ওসি-১ আব্দুল হাই। এ ঘটনায় রুবেল তার বাবা মখলেসুর রহমান (আসকান), রুবেলের ভাই সাব্বির ও শাওন নামের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এ পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলমান আছে। পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামল করা হয়েছে।