চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলবন্দর স্থানান্তরের গুঞ্জন

গোমস্তাপুর প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলবন্দর আমনুরায় স্থানান্তরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ে ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের ঘন ঘন রহনপুর রেলবন্দর পরিদর্শন  গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে।
এ ঘটনায় রেলবন্দর এলাকার মানুষজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে রীতিমতো আলো্চনা হচ্ছে এ বিষয়ে।  তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ হারুনুর রশীদ সম্প্রতি সংসদে আমনুরায় তা স্থানান্তরের দাবি জানানোয় এ বিষয়ে সমীক্ষা চলছে।
এদিকে,  গুঞ্জনকে সামনে রেখে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রহনপুর উন্নয়ন আন্দোলনের আহবায়ক নাজমুল হুদা খান রুবেল জানান, এ রেলবন্দরটি চালু হওয়া প্রায় ৩০ বছর হলেও তা পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরে পরিনত করার কোন উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে একটি মহল। অথচ এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বন্দর করার যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। এটি রহনপুর থেকে আমনুরায় স্থানান্তরের অপচেষ্টা অব্যাহত থাকলে এলাকার জনসাধারণকে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও জানান, এ রেলবন্দর দিয়ে রেলপথে ভারত থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি ও নেপালে রপ্তানী করা হয়ে থাকে। সীমান্তবর্তী রেলস্টেশনেই সাধারণত কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সুবিধা হয়ে থাকে। প্রায় ৩০ কিঃমিঃ দূরে এ সুবিধা প্রদান কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ আমদানীকারকদের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
এদিকে রেলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরের ১ম ৬ মাসে এ বন্দর থেকে বিভিন্ন পণ্য বহন করে রেলওয়ে প্রায় ২২ কোটি টাকা আয় করেছে।
রেলবন্দর প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এলাকার সাবেক সাংসদ জিয়াউর রহমান জানান, গত জুলাই মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এবিষয়ে একটি পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন যোগদান করা পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের সাথে দেখা করে তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
Attachments area