চাঁদপুরে যেভাবে জোড়া খুনের ঘটনা উম্মোচন করল পিবিআই

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নুরুল আমিন ও তাঁর স্ত্রী আরেক কর্মকর্তা কামরুন নাহার হত্যা মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। এই ঘটনার শিকার পরিবারের চুরি যাওয়া মালামাল ক্রয়ের দায়ে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশনের পাশ থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে বরিশাল ও ঝালকাটি থেকে মো. বশির ও ইলিয়াস হোসেন নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এসময় তাঁর কাছ থেকে লুণ্ঠিত দামি মুঠোফোনসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করে পিবিআই।

এই নিয়ে আজ শনিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পিবিআই চাঁদপুর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার খন্দকার নূর নেজওয়ানা পারভীন। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশনের পাশ থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগে বরিশাল ও ঝালকাটি থেকে মো. বশির ও ইলিয়াস হোসেন নামে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

গত এক জুলাই রাতে শাহরাস্তি উপজেলার নাওড়া গ্রামের বাড়িতে খুন হন নুরুল আমিন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হন তাঁর স্ত্রী কামরুল নাহার। ঘটনার তিন দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মূলত চুরি এবং নগদ টাকার লোভে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আসামি আব্দুল মালেক পেশায় রিক্শাচালক হলেও সে এলাকার চিহ্নিত ছিচকে চোর। তার ধারণা ছিল, নূরুল আমিন-কামরুন নাহার দম্পতির কাছে প্রচুর নগদ টাকা-পয়সা এবং স্বর্ণালঙ্কার আছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে ঘটনার রাতে ভিকটিমের বাড়ির ছাদে অবস্থান করে।

এক পর্যায়ে গৃহকর্তা টর্চলাইটের আলোতে চোর আব্দুল মালেককে দেখে ফেলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করে হত্যা করে নূরুল আমিনকে। পরে সে ছাদ থেকে নেমে বাসায় টিভি দেখতে থাকা কামরুন নাহারকে একইভাবে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। পরে দামি মুঠোফোন, কানের দুল এবং স্টিল আলমিরা থেকে নগদ টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আব্দুল মালেক।

এই ঘটনার পর নিহতের একমাত্র ছেলে জাকারিয়া বাবু শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন। পরে গত আড়াই মাস আগে এই মামলার তদন্ত করার দায়িত্ব পায় পিবিআই। এসময় পুলিশ সুপার খন্দকার নূর রেজওয়ানা পারভীনের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ পরিদর্শক কবির আহমেদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপরই তিনিসহ পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান, উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম মীর মাঠে নামেন। তার থেকে টানা অভিযান চালিয়ে প্রথমে চুরি যাওয়া মুঠোফোন ক্রেতাদের এবং সবশেষ তার সূত্রধরে মূল হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পিবিআই।

এদিকে, আজ সন্ধ্যার পর আসামিদের চাঁদপুরের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় মূল আসামি। পরে তাকেসহ অন্য দুজনকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পিবিআই‘র পুলিশ সুপার খন্দকার রেজওয়ানা পারভীন বলেন, জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব ছিল তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু মামলাটি হাতে আসার পর সহকর্মীদের আন্তরিকতায় তা দ্রুত উম্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি।

এদিকে, বাবা ও মাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সন্তান জাকারিয়া বাবু। কর্মসূত্রে ঢাকা থাকতেন তিনি। এছাড়া তাঁর তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। সুতরাং গ্রামে আলাদা বাড়িতে বাবা এবং মা বসবাস করতেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নূরুল আমিন ও কামরুন নাহার সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি করতেন। কয়েক বছর আগে অবসরে যান তারা।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ