গোদাগাড়িতে এনসিডি কর্ণার থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ পাচ্ছেন রোগিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে উপজেলা স¦াস্থ্য কমপ্লেক্স তথা উপজেলা সরকারী হাসপাতাল থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে এনসিডি কর্নারের কার্যক্রম তুলে ধরা ও সকল প্রাপ্ত বয়সীদের কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে রক্তচাপ পরিমাপ করা, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বিনামূল্যে এনসিডি কর্নার থেকে ঔষধ সরবরাহ সহ কম্যুনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিএইচসিপি ও কম্যুনিটি গ্রুপের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১১ টায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নন-কম্যুনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল-এনসিডিসি প্রোগ্রাম ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রাশেদুল হাসান শাওন, এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার এহসানুল আমিন ইমন, সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা: আল আমিন সরকার, ফিল্ড মনিটরিং অ্যাসিষ্ট্যান্ট মো: সোহাগ হোসেন, লজিস্টিক অ্যাসিষ্ট্যান্ট মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারনে সারা দেশে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই লম্বা হচ্ছে। বাংলাদেশে শতকরা ৭০ ভাগ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ সিভিডি জনিত মৃত্যু হার শতকরা ৩৪ ভাগ। শতকরা ১৯ ভাগ অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী এ সমস্ত অসংক্রামক রোগ। সরকার এই পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য উপজেলা হাসপাতালে এনসিডি কর্ণার চালু করেছে। সেখান থেকে রেজিষ্ট্রেশনকৃত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। বাগমারা উপজেলা সরকারী হাসপাতাল থেকে রেজিষ্টার্ড রোগীদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার জন উচ্চ রক্তচাপ, ৬’শ জন ডায়াবেটিস ও প্রায় ৮ শ জন জন উভয় রোগে আক্রান্ত রোগী প্রতিমাসে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ পাচ্ছেন। আগামীতে প্রাপ্ত বয়সী সকল এলাকাবাসীকে কমিউনিটি ক্লনিক থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস সনাক্ত করে এনসিডি কর্নার থেকে সেবা গ্রহনের তথ্য তুলে ধরেন।

কর্মশালায়, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের সরকারের এই কার্যক্রমকে সাধারন মানুষের কাছে পৌছে দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, গনমাধ্যম কর্মী, মসজিদের ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতা ও স্কুল কলেজের শিক্ষকদের ভূমিকার উপর জোড় দেয়া হয়। প্রশিক্ষণে উপজেলার ৩৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সকল সিএইচসিপি ও কম্যুনিটি গ্রুপের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।