ক্যাপিটল হামলার অর্থ দেন ট্রাম্প

মার্কিন পার্লামেন্ট ক্যাপিটল হিল সমাবেশ ও হামলার জন্য উগ্র রক্ষণশীল সমর্থকদের নানাভাবে উসকানি দিয়েছিলেন সদ্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুধু তাই নয়, সমাবেশ আয়োজনে আয়োজকদের কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থও দিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (৬ জানুয়ারি) পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ক্যাপিটল হিল চত্বরে ঢুকে পড়ে ট্রাম্পের কয়েক হাজার সশস্ত্র সমর্থক।

শুধু তাই নয়, কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো ভবনে রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। শুক্রবার প্রকাশিত রাজনীতি পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘সেন্টার ফর রেসপন্সিভ পলিটিক্স’র এক রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

তবে অর্থের বিনিময়ে সমাবেশ ও হামলা চালানোর এ খবর অস্বীকার করেছেন ট্রাম্পের এক প্রচারণা উপদেষ্টা।

নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হারিয়ে দেন ডেমোক্রেট প্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে ফল মেনে নিতে অস্বীকার করে আসছিলেন ট্রাম্প। ৬ জানুয়ারি ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাইডেনের বিজয় প্রত্যায়নের দিন।

সেই লক্ষ্যেই এদিন সকালে শুরু হয় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন। এদিকে ট্রাম্পের আহ্বানে আগে থেকে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে জড়ো হতে থাকে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা। এরপর আকস্মিকভাবে ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়ে তাণ্ডব চালায় তারা।

এ সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ট্রাম্প সমর্থকদের সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হন। সেন্টার ফর রেসপন্সিভ পলিটিক্স’র রিপোর্ট মতে, রাজধানীতে দলে দলে লোক জড়ো করতে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা তহবিল থেকে অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছিল।

এই অর্থের পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ডলারের বেশি। ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সমাবেশ আয়োজকদের বেশ আগে থেকেই প্রস্তুত করছিলেন ট্রাম্প। এ জন্য প্রায় দুই বছর আগে থেকে তাদের অর্থসহায়তা দেওয়া হচ্ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা তহবিল থেকে। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য মতে, সমাবেশ ঘোষণা আসার আগে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের পক্ষে যত প্রতিবাদ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল, তার সব কটির নেপথ্য ভূমিকায় ছিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা কমিটি। এ নিয়ে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এসব প্রতিবেদনে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে তাণ্ডবে যোগ দেওয়া লোকজন ও সমাবেশের সাংগঠনিক আয়োজকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা শিবিরের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের পক্ষে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস নিকট থেকে যেসব সভা-সমাবেশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তার নথিতে ট্রাম্পের প্রচারণা দলের অন্তত আটজন কর্মকর্তার তালিকা রয়েছে।

এর মধ্যে ম্যাগি মুলভানির নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত তার নামে অন্তত এক লাখ ৩৮ হাজার ডলার পাঠানো হয়েছে। ম্যাগি হচ্ছেন মাইক মুলভানির ভাতিজি। ট্রাম্পের আমলে হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ ছিলেন মাইক।

তিনি পরে নর্দান আয়ারল্যান্ডবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান। ক্যাপিটল হামলার পর মাইক পদত্যাগ করেন। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেগান পাওয়ার নামের আরেক ব্যক্তিকে দেওয়া হয় দুই লাখ ৯০ হাজার ডলার।

রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম চাঁদা সংগ্রহকারী ক্যারোলিন রেনের ও রোনাল্ড হোল্ডেনের নামও পাওয়া গেছে সভা-সমাবেশ করার আবেদনের নথিপত্রে। এই দুজনকে ট্রাম্পের সমাবেশের অনুমতিপত্রে উপদেষ্টা হিসাবে দেখানো হয়েছিল। ট্রাম্পের একটি নির্বাচনী প্রচারণা সংগঠন থেকে অরেনকে মাসে ২০ হাজার ডলার করে দেওয়া হয়েছে।

এপি জানিয়েছে, ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের রেকর্ডে দেখা যায়, গত মধ্য মার্চ থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত রেন প্রতি মাসে ট্রাম্পের প্রচারণা তহবিল থেকে এই অর্থ পেয়েছেন।

 

সুত্রঃ যুগান্তর

শর্টলিংকঃ

প্রিয় পাঠক, স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিও আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, silkcitynews@gmail.com ঠিকানায়। অথবা যুক্ত হতে পারেন @silkcitynews.com আমাদের ফেসবুক পেজে। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।